বরিশাল নগরীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। দিনে–রাতে নির্বিচারে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও দোকানের শাটার নামানো, কোথাও আবার মালিক ও কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। বেশ কিছু দোকানে তালা ঝুলিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্যিক অফিসগুলোতেও একই চিত্র—কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালু রাখা যাচ্ছে না।
নগরীর একাধিক মোবাইল ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে শোরুম খোলা রাখার কোনো অর্থ নেই। মোবাইল চার্জ দেওয়া, সফটওয়্যার সংক্রান্ত কাজ কিংবা গ্রাহকসেবা—সবই বন্ধ হয়ে যায়। মোবাইল ব্যবসায়ী রাজিব বলেন,
“বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে তালা দিয়ে বাইরে ঘুরছি। এতে প্রতিদিন বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন,
“দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ—সবই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে কাস্টমার থাকে না, লোকসান বাড়ে।”
একটি ব্র্যান্ড শপের অফিস সহকারী ইমন জানান,
“জেনারেটর দিয়ে কতক্ষণ শোরুম চালানো যায়? জ্বালানির খরচও বেশি। বিদ্যুৎ না থাকলে বিক্রি কমে যায়, কাস্টমার অন্ধকার দোকানে ঢুকতে চায় না।”
শুধু ব্যবসায়ী নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, বাসাবাড়িতে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে, মোবাইল চার্জ দেওয়া নিয়েও বিপাকে পড়ছেন অনেকে। গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,
“বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আদানি বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে কোনো চুক্তিগত সমস্যা হয়েছে কিনা—সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত।”
বরিশালবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চললেও কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।