নিজস্ব প্রতিবেদক :: সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা ততই বাড়ছে। এবার বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে আলোচনায় এসেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। সম্প্রতি মাইক হাতে ধানের শীষ প্রতীকে পক্ষে মিজানুর রহমানের ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
তিনি বিগত ২০২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাতজনের মধ্যে ৪ নম্বরে মো. মিজানুর রহমানের নাম ছিল। মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল, সরাসরি দলে তাঁর কোনো পদ-পদবি না থাকলেও মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় তাঁর পদ বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উল্লেখ করেছিলেন।
আরও দেখুন
Newspapers
City & Local Guides
Politics
Geographic Reference
মিজানুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ওই সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়- বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন মিজানুর রহমান। পাশিপাশি মাইক হাতে ধানের শীষের পক্ষে শ্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় জয়নাল আবেদিনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তার এমন কার্যক্রমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, সুদিনে এখন সবাই বিএনপি সেজে বসে আছে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে মিজানুর রহমানের মতো লোককে প্রাধান্য দিলে দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ভোট কমতে পারে।”
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মন্তব্য করেন, মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এখন হঠাৎ পল্টি মেরে বিএনপির ধান ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। নাম্বার ওয়ান বাটপার।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব দেখিয়ে বিসিকের প্লটের বড় অংশ দখল, নামে-বেনামে প্লট হাতিয়ে নেওয়া, কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বঞ্চনাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বরপুত্র মিজানুর রহমান। গোটা বিসিক যেন ফরচুন মিজানের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর হাতেই ছিল বিসিকের চাবি।
আরও দেখুন
Politics
Newspapers
City & Local Guides
Geographic Reference
জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ছাগল-কাণ্ডের আলোচিত কর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে অল্প সময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন মিজানুর রহমান।
মিজানের উত্থান
২০১২ সালে বরিশাল বিসিকে ১ একর জমির টিনশেড ঘরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রপ্তানিমুখী জুতা উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফরচুন শুজ। বর্তমানে বিসিকেই ফরচুন গ্রুপের ৬টি শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্রুপটি আয়ত্তে নিয়েছে ২৮টি প্লটের মোট ৬ একর ৮০ শতাংশ জমি। তাঁর পরিবারে এমন কোনো সদস্য পাওয়া যাবে না, যাঁদের নামে প্লট নেই। নানা কৌশলে অন্য মালিকদের প্লট কিনছেন তিনি। মিজান নিজে যেমন বিসিকের আইনকানুন মানেন না, ঘনিষ্ঠজনেরাও তাঁর ক্ষমতায় ক্ষমতাবান। বাবুল হোসেন ওরফে ঝুট বাবুল নামক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পুরো বিসিক নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। চার ভাই যথাক্রমে আমানুর রহমান, সফিকুর রহমান, রবিউল ও রেজাউল কারখানা দেখভালের পাশাপাশি পুরো বিসিকে খবরদারি করতেন।
এ সব বিষয়ে জানতে ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।