
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দুই শ্রমিকনেতাকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিনভর কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে কারখানা ফটকে সংবাদ সম্মেলন করে ওই দুই নেতাকে কাজে ফেরানোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্ত্তী। এতে লিখিত বক্তব্যে দেন সোনারগাঁও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান বলেন, আইএলও সনদ ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার। অথচ সেই অধিকারচর্চার কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুকু মণিকে মৌখিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। অথচ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ওই শ্রমিকনেতার দাবি, বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে কারখানা ত্যাগ করা মিলের দীর্ঘদিনের রীতি। এটিকে অজুহাত দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ আগে শোকজ নোটিশ দেয় এবং পরে একটি পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই নেতাকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
একাধিক শ্রমিকের অভিযোগ, তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না ও একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকনেতারা বলেন, বেআইনিভাবে ইউনিয়ন নেতাদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে দমন করার চেষ্টা চলছে। এটি শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারচর্চার ওপর সরাসরি আঘাত।
মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘শ্রমিকদের পেটে লাতি মারার এ অমানবিক কাজ আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমাদের দাবি, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত দুই শ্রমিকনেতাকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন চলবে। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরার সুযোগ নেই।’
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে আসেন। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে শ্রমিকেরা তা প্রত্যাহারে না করে কর্মবিরতিতে অনড় আছেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।
এর আগে গতকাল রোববার দিনভর কর্মবিরতি শেষে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রায় সোয়া ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখেন।


