নিজস্ব প্রতিবেদক :: মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআনুল কারিম হেফজ করেছে ১৩ বছর বয়সী মুসাইব হোসাইন। বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র মুসাইব আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে।
দ্রুততম সময়ে পুরো কোরআন মুখস্থ করায় মঙ্গলবার(১১ আগস্ট) রাতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মুসাইবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মুসাইব পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়ে পুরস্কার অর্জন করেন সে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর কোরআন হেফজের প্রতি মুসাইবের প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের আগ্রহে অতিরিক্ত সময়ে কোরআন তেলাওয়াত ও মুখস্থ করতে থাকে সে। এরই ধারাবাহিকতায় মাত্র ৭৩ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করে মুসাইব।
মুসাইবের বাবা মিজানুর রহমান বেপারী বলেন, আল্লাহ আমার ছেলেকে মেধা দিয়েছেন। সেই মেধা দ্বীনের কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা থেকেই তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করি। আল্লাহ তায়ালা আমার ছেলেকে ৭৩ দিনে হাফেজ হিসেবে কবুল করেছেন। বাবা হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।
মুসাইবের মক্তব শিক্ষক বলেন, মুসাইব ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মক্তবে কোরআন পড়ত। তার মধ্যে কোরআন শেখার প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। আল্লাহর রহমতে সে এত অল্প সময়ে পুরো কোরআন হেফজ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
মুসাইব হোসাইন জানিয়েছে, সবার দোয়ায় আমি ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ হতে পেরেছি। বড় হয়ে একজন ভালো আলেম হতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় শুনেছি, অনেক ছাত্র অল্প সময়ে কোরআন হেফজ করে। কিন্তু আমার নিজের হাতে এমন কোনো ছাত্রকে এত অল্প সময়ে হেফজ করাতে পারিনি। আল্লাহ তায়ালা এবার আমাদের সেই আশা পূরণ করেছেন।
তিনি বলেন, অন্য ছাত্ররা বিকেলে খেলাধুলা করলেও মুসাইব অনেক সময় এক পাশে বসে কোরআন পড়ত। রাতে অন্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পরও সে তেলাওয়াত করত। নিজের আগ্রহ, চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের কারণে সে অল্প সময়ে কোরআন হেফজ করতে পেরেছে। এমনও দিন গেছে, এক দিনে সে এক পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছে। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ রহমত। আমরা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাই।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও এই মাদ্রাসার শিক্ষকেরা আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন। এসব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করে মাদ্রাসাটির সুনাম বয়ে এনেছে।