নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল কাশিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপি নেতা কাজী জাহাঙ্গীর চান্দুর নাম।
আসন্ন বরিশাল সদর উপজেলার ২ নং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির পরীক্ষিত ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর (চান্দু কাজী) - এমএ।
নিজেকে তিনি বড় নেতা হিসেবে নয়, কাশিপুরের সন্তান ও সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পারিবারিক শিকড় এই ইউনিয়নে হওয়ায় আমৃত্যু এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।শিক্ষক পরিবারের আদর্শে বেড়ে ওঠা:কাজী জাহাঙ্গীরের বাবা মরহুম কাজী আবুল হাসেম ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি কলসগ্রাম ও সারসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করেই মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির রাজপথের যোদ্ধা:দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী কাজী জাহাঙ্গীরের রাজনীতির শুরু স্কুল জীবন থেকেই।১৯৮৬ সালে বৃহত্তর কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।
পরবর্তীতে একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, বরিশাল দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং তৎকালীন এরশাদ ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান বরিশাল ইসলামিয়া কলেজ) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কাশিপুরে প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন।ছাত্ররাজনীতি শেষে তিনি বিএনপির মূল সংগঠনে যুক্ত হন। তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ও তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জিয়া মঞ্চের সদর উপজেলা কমিটির ১ নম্বর সদস্য এবং শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের বরিশাল মহানগর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি।
নির্যাতন ও ত্যাগের ইতিহাস:
রাজনৈতিক জীবনে চড়াই-উতরাই কম দেখেননি। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনসহ ১৪টি মামলা হয়েছে এবং একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০০০ সালে বিল্ববাড়ী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহরণ চেষ্টার শিকার হয়েছিলেন, যা স্থানীয় মুসল্লিদের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকতা পেশায় পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি:
রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায় ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে সুনামের সাথে কাজ করছেন।২০০০ সালে গণমাধ্যমে যাত্রা শুরু করে সাপ্তাহিক ইতিবৃত্ত, দৈনিক মতবাদ, দৈনিক আজকের বার্তা, দৈনিক কলমের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক আজকের বসুন্ধরা ও দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান ছিলেন। ২০১৭ সালে নিজের নামে 'দৈনিক দখিনের খবর' পত্রিকার ডিক্লারেশন গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম, বরিশালের সাধারণ সম্পাদক।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানবিক মুখ:
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সরঞ্জাম বিতরণ
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের এসএসসি ফরম পূরণে আর্থিক সহযোগিতা
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই-খাতা বিতরণ ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা
মসজিদ-মাদ্রাসায় ব্যক্তিগত অনুদান
জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অসহায়দের নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ
সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মজিবুর রহমান সরোয়ারের মাধ্যমে এলাকায় রাস্তা সংস্কার ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা।
পারিবারিক জীবন:
দুই পুত্রের জনক তিনি। বড় ছেলে স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি বিদেশি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত। ছোট ছেলে কাজী মোঃ আবু যাঈদ সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
নির্বাচিত হলে কাশিপুর ইউনিয়নকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও বাসযোগ্য মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বেকার নারী ও তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, “চেয়ারম্যান কোনো ক্ষমতা নয়, এটি একটি আমানত। জনগণ দায়িত্ব দিলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করবো। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়াইনি। একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে ছিলাম, আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
তার স্লোগান — ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।