নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী তেল ডিপো ও নদীতে নোঙর করা জাহাজগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল চোরাই জ্বালানি তেলের সাম্রাজ্য।
দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গভীর রাতে অভিনব কায়দায় এই অবৈধ তেল বেচাকেনা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, প্রতিদিন গভীর রাতে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে রাখা বিভিন্ন তেলবাহী কার্গো, অয়েল ট্যাংকার ও বড় ট্রলার থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল (ডিজেল ও পেট্রোলিয়াম) সংগ্রহ করা হয়। পরে ছোট ছোট নৌযান ও ট্রলারের মাধ্যমে এই চোরাই তেল নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গোপন ঘাটে নামানো হয়। সেখান থেকে ড্রাম ও বড় ট্যাংকে ভর্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল অবৈধ কর্মকাণ্ডটি একক কোনো ব্যক্তির পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বহুমুখী সংঘবদ্ধ চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কিছু ব্যক্তি, তেল ডিপোর সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালু রাখতে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা মাসোহারা দেওয়া হয় বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাত যত গভীর হয়, কেডিসি ঘাট এলাকায় চোরাই তেলের কারবারিদের তত বেশি আনাগোনা বাড়ে। ছোট ছোট ট্রলারের শব্দে যেমন রাতের নীরবতা বিঘ্নিত হয়, তেমনই এই অবৈধ ব্যবসার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে, কম দামে চোরাই তেল বাজারে চলে যাওয়ায় বরিশালের বৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এলাকাবাসী কীর্তনখোলা নদী'র তীরবর্তী ঘাট ও সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সদর নৌ পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অসীম কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "নদীপথে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে নৌ পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কেডিসি এলাকার তেল চুরির এই অভিযোগটির বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"