
স্টাফ রিপোর্টার :: জনগণের ভোগান্তি ও হয়রানির নির্দিষ্ট স্থানে রূপ নিয়েছে বরিশাল কীর্তনখোলা (বেলতলা) খেয়াঘাট। সরকারি নিয়ম না মেনে ইজারাদার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি ৩ দফা দাবি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় প্রায় অর্ধশত বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর দেড়টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনলে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চরমোনাই পশুরিকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার। জনগণের দাবি- এই খেয়াঘাটের ইজারা নিতে চাওয়া ইজারাদারদের উদ্দেশ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। নিয়মানুযায়ী খেয়াঘাট পরিচালনা না হলে জনগণ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
লিখিত বক্তব্যে নাসির উদ্দিন বলেন, বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তন খোলা (বেলতলা) খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়। পেশি শক্তির প্রভাব দেখিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে ইজারাদার ও তার লোকজন। যাতায়াতরত মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অপমান ও হয়রানি হতে হয়। এমনকি অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না।
তাদের দাবিগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো : –
১) অবৈধ প্রক্রিয়ায় জনপ্রতি ভাড়া ৪ টাকা থেকে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অবৈধ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া করতে হবে। উল্লেখ্য, এক বছর ধরে জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
২) জনপ্রতি ভাড়া ছাড়া অন্য সব ভাড়া সরকার নির্ধারিত রেটের বাহিরে নিলে বা নেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।
৩) খেয়াঘাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে যে সকল নিয়মাবলি উল্লেখ রয়েছে সকল নিয়মাবলি মেনেই কীর্তনখোলা (বেলতলা) খেয়াঘাট পরিচালনা করতে হবে।
যেমন-
ক) ইজারাদারকে নিজ খরচে খেয়াঘাটের উভয় পাড়ে যাত্রী সাধারণের ওঠা-নামার জন্য সিঁড়ি/জেটি/অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি ও গণ-শৌচাগার নির্ধারণ করতে হবে।
খ) ইজারাদারকে পারাপারের নির্ধারিত টোল আদায়ের তালিকা বাংলা ভাষায় স্পষ্ট ভাবে সাইনবোর্ড আকারে জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে খেয়াঘাটের প্রকাশ্য স্থানে স্থায়ী ভাবে টানিয়ে রাখতে হবে।
গ) টোল/মাশুল ছাপানো টিকিটের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।
ঘ) খেয়াঘাটে কমপক্ষে দুইটি ট্রলার রাখতে হবে, প্রতি ট্রলারে দুইজন করে মাঝি রাখতে হবে এবং রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ঙ) ইজারাদার খেয়াঘাট সাব-লিজ দিতে পারবে না।
চ) খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বোঝাই করতে পারবে না।

