নিউজ ডেস্ক :: বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদে যানজট নিরসনে বিএমপি'র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীনের কার্যকর উদ্যোগ, স্বস্তিতে নগরবাসী!
বরিশাল নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা নথুল্লাবাদে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। মূল সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় রোড ডিভাইডার স্থাপনের ফলে যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে তুলনামূলকভাবে কমেছে যানজট, স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের টিআই (অ্যাডমিন) মো. হেলাল উদ্দীন। ব্যস্ততম এই এলাকায় যানজটের কারণ চিহ্নিত করে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নথুল্লাবাদ কালভার্টের পূর্ব পাশে বাজারের সম্মুখে মূল সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা সড়কের অংশ উন্মুক্ত হয়েছে এবং যানবাহন চলাচলের জায়গা বেড়েছে। ফলে সড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় সহজ হয়েছে এবং যানজটের চাপ কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে দুই সড়কের মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে রোড ডিভাইডার। এর ফলে যানবাহনের যত্রতত্র ইউটার্ন নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট-বড় যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত দিক পরিবর্তন কমে আসায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়েছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল বরিশালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন এ এলাকা দিয়ে অসংখ্য দূরপাল্লার বাস, স্থানীয় গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে এখানে সামান্য বিশৃঙ্খলাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দখলমুক্ত করা এবং যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রোড ডিভাইডার স্থাপনের উদ্যোগ যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের টিআই (অ্যাডমিন) মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, নথুল্লাবাদ এলাকার যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সড়কের ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাই সড়ক উন্মুক্ত রাখা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল এলাকায় রোড ডিভাইডার স্থাপনের মাধ্যমে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় এক যাত্রী বলেন, নথুল্লাবাদ এলাকায় যানজটের কারণে আগে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সড়কের ওপরের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ায় চলাচলের জায়গা বেড়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও কমবে।
এক পথচারী বলেন, ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও যত্রতত্র ইউটার্ন নেওয়ার কারণে পথ পারাপারে সমস্যা হতো। রোড ডিভাইডার স্থাপনের ফলে যান চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকলে পথচারীদের জন্য চলাচল আরও নিরাপদ হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নথুল্লাবাদ এলাকায় যানজট নিরসনে নেওয়া এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে সড়ক দখলমুক্ত রাখা, যানবাহনের নিয়মতান্ত্রিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কার্যকর নজরদারি অব্যাহত থাকলে বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথে যানজট আরও কমবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত হবে স্বস্তিদায়ক।