নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে পেশা উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা, আন্তঃবিভাগ পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট ৩.০ জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা বিলম্বে বেলা সাড়ে ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দুপুর পৌনে ১২টায় শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এতে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের পাশাপাশি আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি ও মোটিভেশনাল স্পিকাররা ক্যারিয়ার গঠন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্কিং এবং বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ অমি বলেন, আমাদের বিএম কলেজের সবচেয়ে বড় বিভাগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সারাদিন পড়াশোনার পাশাপাশি এই মিলনমেলার মাধ্যমে আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত হই এবং মুক্ত আলোচনার সুযোগ পাই। প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স এবং প্রাক্তন সিনিয়র ভাইদের নিয়ে এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। আমরা যেভাবে এই উদ্যোগ শুরু করেছিলাম, জুনিয়ররা সেটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখন এআইয়ের যুগ। এআইতে দক্ষ হতে হবে এবং নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সারাদিন ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে নিজেকে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সময় দিতে হবে। আইটি ও এআইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষ লোকের চাহিদা থাকলেও দক্ষ লোক পাওয়া যায় না। তাই দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে বেকার থাকতে হবে না। দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতাও বাড়াতে হবে। মানুষের জীবনের ক্যারিয়ারের দুটি অংশ একটি হলো দুনিয়ার জীবনে ক্যারিয়ার গঠন, আরেকটি হলো মৃত্যুর পরের চিরস্থায়ী জীবন। তোমরা ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী। আশা করি, তোমরা নিজেদের বিষয় ভালোভাবে রপ্ত করে দক্ষ ব্যবস্থাপক হবে। তোমাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেছা বলেন, পেশা উন্নয়নে বর্তমান কর্পোরেট জগৎ অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শুধু ভালো সিজিপিএ একটি চমৎকার ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দেয় না। পেশা উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, দলগত কাজ, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তোমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে এবং সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বক্তাদের পরামর্শ নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে না পারলে ক্যারিয়ারে সফলতা আসবে না। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আশ্বস্ত করছি, যেকোনো সৃজনশীল ও পেশা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বিভাগ সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে। নেটওয়ার্ক বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
আলোচনা পর্ব শেষে বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। দুপুর দেড়টায় গ্রুপ ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় শুরু হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, গানসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। আনন্দঘন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট ৩.০ এর সমাপ্তি হয়।