ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল-ভাঙ্গা রেল, ৬ লেন মহাসড়কসহ তারেক রহমানের কাছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর যত চাওয়া

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল-ভাঙ্গা রেল, ৬ লেন মহাসড়কসহ তারেক রহমানের কাছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর যত চাওয়া।

বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টি আসন বিএনপি উপহার দিয়েছে। তাই নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশী। সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘স্বপ্নের বরিশাল’ গড়ায় তার উত্তরসূরি বেগম খালেদ জিয়া যে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গেছেন, নতুন সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে বলেও আশা করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। স্বাধিনতার পরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ই ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশালে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে প্রশাসনিক বিভাগ গঠন, বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিমানবন্দর নির্মান, ১শ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন সহ একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল উত্তরসূরি হিসেবে বেগম জিয়াকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ভিন্ন শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় দেখেন। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে যে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহিদ জিয়াউর রহমান, উত্তরাধিকারী হিসেবে তার সফল বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের বরিশাল নিয়ে উন্নয়ন ভাবনার বেশীরভাগই বাস্তবায়ন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১ থেকে ’০৬-এর দেশ শাসনামলে বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠা সহ অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ বেগম জিয়ার হাতে শুরু ও শেষ হয়েছিল। তিনি সবসময়ই সারা দেশের সুষম উন্নয়নের কথা বলতেন এবং বরিশালের উন্নয়নে ন্যায্য হিস্যাও প্রদান করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এবং ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাই বার বারই তিনি বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে ছুটে এসেছেন। তারমত গণমুখি, জনবান্ধব ও গণতন্ত্র লালনকারী নেতার হাত ধরে যে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে, সে সরকারও বেগম জিয়ার গণতান্ত্রিক মানিসকতা অনুসরন সহ সারা দেশের মত দক্ষিণাঞ্চলকেও উন্নয়নের মহাসড়কে যথাযথ স্থান দেবেন বলেও আশা করছেন এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ।

বরিশালÑফরিদপুর জাতীয় মহাসড়ক ৬লেনে উন্নীতকরন, বরিশাল-ভাঙ্গা রেলপথ নির্মান, বরিশালে ইপিজেড স্থাপন সহ বরিশালের সাথে চট্টগ্রামের উপকূলীয় নৌপথে নিরাপদ নৌ যোগাযোগ স্থাপনের মত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নতুন সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবেন বলেও আশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।
জিয়াউর রহমান যেভাবে চির অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলকে ভালবাসতেন, এ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা ভাবতেন, তেমনি বেগম খালেদা জিয়া তা এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেগম জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারী বরিশালে দেশের ৫ম প্রশাসনিক বিভাগের উদ্বোধন করেছিলন। ওই বছরই বরিশাল বিমানবন্দরের নির্মান কাজ শুরু করে ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তা উদ্বোধন এবং একই সাথে বরিশাল সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইটও চালু করেছিলেন তিনি। তবে ৩০ বছর পরেও বরিশাল-ঢাকা সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইট সহ চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর সেক্টরে বিমান ফ্লাইট চালু হয়নি। জিয়াউর রহমানের সরকারই ২০০২ সালে দেশের ৫ম বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠন করেন। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরীর ডেফুলিয়াতে প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ছাড়াও বরিশাল মডেল ¯ু‹ল এন্ড কলেজ, বরিশাল মহিলা টিটিসি, দপদপিয়া সেতু ও বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন সহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় এসব প্রকল্পেরই নির্মান কাজও শুরু হয়েছিল। একইদিনে তিনি বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, বরিশাল সার্কিট হাউজ ও জেলা জজ আদালত ভবনেরও উদ্বোধন করেছিলেন।
এমনকি দ্বীপজেলা ভোলার যে গ্যাস নিয়ে এখনো বাস্তব কাজের পরিবর্তে নানা কথা চালাচালি চলছে, তার আবিস্কারও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই। ১৯৯৫ সালের মধ্যভাগে ভোলার শাহবাজপুরে প্রথম পরিক্ষামূলক গ্যাস কুপ খনন শুরু হয় এবং ওই বছরের ৭ নভেম্বর ১ নম্বর কুপে গ্যাসের সন্ধান নিশ্চিত করেন বাপেক্স এর প্রকৌশলীরা। পরদিনই বেগম জিয়া ভোলা গ্যাস ফিল্ডে ছুটে আসেন। সেই থেকে ভোলাতে একাধিক গ্যাসকুপ খনন করে প্রায় ২ টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত সে গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়নি। নিশ্চিত হয়নি বানিজ্যিক ব্যবহারও ।
সারা দেশের সাথে সাগর পাড়ের কুয়াকাটার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সহ কুয়াকাটায় প্রথম সরকারি পর্যটন মোটেলের নির্মান কাজ বেগম জিয়ার সময়ই শুরু হয়। পরবর্তি সরেজমিনে কুয়াকাটা সফর করে ‘একান্ত পর্যটন এলাকা’ ঘোষনা সহ সেখানে আরো একটি পর্যটন মোটেল নির্মানের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দও করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।
এমনকি কুয়াকাটা-বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের শিকারপুর ও দোয়ারিকাতে সেতু নির্মান করে মুক্তিযুদ্ধের দুই বীর সেনানী মেজর এমএ জলিল ও বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে তার নামকরণ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। একই মহাসড়কের বরিশাল-কুয়াকাটা অংশে দেশের অন্যতম বৃহৎ দপদপিয়া সেতুর নির্মান কাজের সূচনা সহ কলাপাড়া, হাজিপুর ও মহিপুর সেতু নির্মান কাজেরও অনুমোদন প্রদান করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি খুলনা-বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের নির্মানকাজ এবং ঐ মহাসড়কের বরিশাল-খুলনা অংশের গাবখান নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন ৫ম মৈত্রী সেতু নির্মান ছাড়াও বেকুটিয়াতে ফেরি সার্ভিস প্রবর্তন তার সময়ই হয়েছিল।
তার সময়ই বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপকুলভাগ সহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ এবং নদ-নদীর নিরাপত্তার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়।
অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে হাজার হাজার কিলোমিটার পল্লী সড়ক সহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মান এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মানের ফলে এ অঞ্চলে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। মেয়েদের জন্য ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়া সহ উপবৃত্তি প্রবর্তনও তার শসনামলেই সম্ভব হয়েছিল। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটে।

বরিশাল শহর রক্ষা প্রকল্প, বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ইন্টারনেট পরিসেবা চালু এবং রাষ্ট্রীয় সেলফোনের আওতায় বরিশালকে সংযোজন তারই অবদান। তিনিই ১৯৯৫ সালে রাজধানীর সাথে বরিশাল ও খুলনার নিরাপদ নৌ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অচল প্যাডেল হুইল জাহাজ ‘পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপাচ’য় মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ এর পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন সম্পন্ন করে যাত্রী পরিবহনে ফিরিয়ে দেন। এছাড়া বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় স্টিমার সার্ভিস নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে দুটি নৌযানের আধুনিকায়ন প্রকল্পও অনুমোদন করেন ২০০৬ সালে। ২০০২ সালে অপর প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস টার্ণ’এ নতুন ইঞ্জিন সংযোজন সহ আধুনিকায়ন করা হয়। একই বছর চীনা আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ৪টি উপকূলীয় সী-ট্রাক এবং ‘এমভি বার আউলিয়া’ সহ দুটি রো-রো ফেরি’ও সংগ্রহ করা হয়। যা দেশের উপকূলীয় এলাকার নিরাপদ যাত্রী পরিবহন সহ রাজধানীর সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তবে এসব কিছুর মধ্যে বেগম জিয়ার দুরদর্শী নেতৃত্বে বরিশাল প্রশাসনিক বিভাগ বাস্তবায়ন ছিল এ অঞ্চলের উন্নয়নে অন্যতম প্রধান মাইলফলক। বিভাগ প্রতিষ্ঠার ফলেই বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল দেশের উন্নয়নের মূল ¯্রােতে শামিল হবার সুযোগ লাভ করেছিল।
বেগম জিয়ার সরকারের আমলেই বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং জিপিও প্রতিষ্ঠা সহ পোষ্টাল সার্কেল স্থাপন ছাড়াও কাস্টমস ও ভ্যাট কালেক্টরেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু তা আজো কার্যকর হয়নি। অথচ তার শাসনামলেই ২০০৩ সালে বরিশাল কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ২৩ কোটি টাকার আয়কর রাজস্ব ইতোমধ্যে প্রায় ১২শ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
বরিশালই একমাত্র বিভাগীয় সদর, যেখানে আজো রাষ্ট্রীয় পর্যটন করপোরেশনের কোন হোটেল বা মোটেল স্থাপিত হয়নি। অথচ এজন্য জমি বরাদ্দ সহ ডিপিপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনেও পাঠান হয়েছে আরো ৫ বছরে আগে।
উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন এবং গণতন্ত্র লালন করার জন্যও বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বেগম জিয়াকে মনে রাখবেন আজীবন।