
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কোয়ার্টারে অপরাধের স্বর্গরাজ্য : নেপথ্যে অসাধু কর্মচারী সিন্ডিকেট!
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টার এখন অপরাধীদের নিরাপদ চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরেই চলছে মাদক, জুয়া এবং অসামাজিক কার্যকলাপের রমরমা আসর। পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এসব জরাজীর্ণ ভবন দখল করে একদল অসাধু কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই সংস্কারহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী এগুলো খালি করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের কিছু অসাধু স্টাফের প্রত্যক্ষ মদদে ভবনগুলো অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব পরিত্যক্ত কক্ষ বাইরের অপরাধীদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট।
রাতের আঁধারে এই কোয়ার্টার এলাকা মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। এমনকি এখানে নিয়মিত ‘পতিতা বাণিজ্য’ চলে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা হাসপাতালের সুস্থ পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ঐ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মশিউর মনির কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে অবৈধ দখলদারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ নিজ ক্ষমতা বলে দখল করে আছে।
পরিচালক বলেন, “চতুর্থ শ্রেণি কোয়ার্টারে কারা অবৈধভাবে অবস্থান করছে, সেই লিস্ট আমার দপ্তরে আছে। আমরা খুব দ্রুতই বড় ধরনের অ্যাকশনে যাবো। পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং নতুন আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
সাধারণ রোগী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই উচ্ছেদ অভিযান কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সাথে হাসপাতালের ভেতরের যে অসাধু কর্মচারী চক্র এই অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


