নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার প্রদীপ মদ বিক্রি করেই কোটিপতি!
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নিম্নপদস্থ কর্মচারীর অভিজাত জীবনযাপন ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে প্রদীপ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঝাড়ুদার পদে কর্মরত প্রদীপ নাজির মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সদ্য কাউনিয়ায় করেছেন একটি বিলাশবহুল বাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বেতনের সামান্য আয়ের একজন ব্যক্তি হিসেবে তার এত বিপুল সম্পত্তি থাকা “অস্বাভাবিক।” সম্প্রতি তিনি কাউনিয়ার ছোট মিয়া গলিতে জমি কিনে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে রয়েছে বিলাসবহুল আসবাবপত্র, একাধিক মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ।
অভিযোগ রয়েছে, প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাংলা মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার একটি বাহিনী রয়েছে, যারা নাজির মহল্লায় তার মদ বিক্রির আস্তানার সামনে পাহারা দেয়। প্রশাসনের কোনো সদস্য বা তল্লাশির খবর পেলে তারা তাকে সতর্ক করে। গ্রুপটির প্রধান স্থানীয় এক যুবক, যিনি ‘রানা’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন সময় এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মদ্যপান ও এলাকায় অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী বলেন, “প্রদীপের সম্পদের উৎস তার সরকারি চাকরি থেকে আসা সম্ভব নয়। প্রশাসন এতদিন নীরব থেকেছে, অথচ সে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রশাসন দ্রুত প্রদীপের সম্পদের উৎস উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন ঝাড়ুদার কিভাবে কোটি টাকার মালিক হলো? এতদিন প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিল না?”
সচেতন মহল বলছে, সিটি কর্পোরেশনের একটি কর্মচারীর অবৈধভাবে সম্পদশালী হওয়া শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ণ করছে না—বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রদীপকে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এদিকে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে মদ্যপানের বৈধতা দেওয়া হলেও বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। তাই প্রদীপের কর্মকাণ্ড আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে শঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিক এলাকাবাসীর দাবি “সরকারি কর্মচারীর সম্পদ-উৎপত্তি যাচাই এবং অভিযোগিত অবৈধ কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি কেউ আইন ভঙ্গ করলে সেক্ষেত্রে প্রশাসন কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে বলে মনে করেছে স্থানীয়রা।