
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল–৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দুই উপজেলা জুড়ে এখন মাইকিং, মিছিল, পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের ব্যস্ততা। দিনভর ও গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও বাজারগুলো প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছর পর সরাসরি ভোটের মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় ভোটারদের মাঝেও বাড়ছে আগ্রহ ও কৌতূহল। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বিরাজ করছে নির্বাচনী ব্যস্ততা।
প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এলাকার সমস্যা, প্রত্যাশা ও অভিযোগ শুনছেন। পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার তীব্রতা।
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঈগল প্রতীকে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম ফারদিন ইয়ামিন এবং বাসদের মই প্রতীকের প্রার্থী আজমুল হক জিহাদ।
বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বেকারত্ব এই এলাকার বড় সমস্যা। এসব থেকে মুক্তি পেতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কন্যা হাবিবা কিবরিয়া। তিনি বলেন, তাঁর বাবা তিনবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। জনগণ আবারও তাঁদের ওপর আস্থা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


