নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের পর মো. অলিউল্লাহ অলি নামে এক উপ-খাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাউফল থানা থেকে অফিসিয়াল চিঠি পাওয়ার পর গত ২৭ মার্চ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বরখাস্ত কার্যকর হয়।
জানা গেছে, মো. অলিউল্লাহ অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর দিয়ারা কচুয়া এলাকায় কয়েকজন কৃষক তরমুজ চাষ করেন। অভিযুক্ত অলিউল্লাহ ওই জমির মালিকানা দাবি করে তরমুজ কাটতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
গত ১৬ মার্চ সকাল ১১টার দিকে কৃষকেরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিলে, অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কৃষকেরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা জোরপূর্বক তরমুজ বোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অপর ট্রলারটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে মো. অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।