নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পেয়ারপুর–গারুড়িয়া সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হলেও প্রায় এক বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়ক ব্যবহারকারী ১০টি ইউনিয়নের মানুষ। সড়কজুড়ে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় ধুলার কুণ্ডলী সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ধুলাবালু প্রবেশ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ধুলাবালুর মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছেন। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও দুর্ভোগ হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-আসা আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ধুলাবালুর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে, সড়কের অসমাপ্ত ও বেহাল অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়ছে মেরামত ব্যয় ও যাতায়াতের সময়। বিশেষ করে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী পরিবহনচালকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রায় ২১ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে থাকার কারণ কী? প্রকল্পের কাজ পুনরায় কবে শুরু হবে, আর কবে নাগাদ শেষ হবে—তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, পেয়ারপুর–গারুড়িয়া সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়, বরং আশপাশের ইউনিয়নগুলোর মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ বন্ধ থাকার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাঁদের মুক্তি দেবে।