মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অত্যন্ত দায়সারা ও নামমাত্র আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত হওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সুস্পষ্ট নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে কোনো প্রকার চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াই দিবসটি পালন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনাটিতে মূল অভিযুক্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেনের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটিতে র্যালি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং বিশেষ করে কন্যা শিক্ষার্থীদের মাঝে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণের কথা ছিল। তবে বানারীপাড়ায় কেবলমাত্র একটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সামান্য আনুষ্ঠানিকতায় কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
দিবসটির মূল আকর্ষণ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার স্পষ্ট জানান, সেখানে কোনো ধরনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে— সরকারিভাবে এই প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় গেল?
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যুক্ত না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঋগপতি রায় জানান, দিবসটি উদযাপন সংক্রান্ত কোনো চিঠি বা তথ্য তাঁদের দপ্তরে পাঠানোই হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এটি একটি জাতীয় প্রোগ্রাম এবং এটি সফলভাবে প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন অবশ্যই করতে হবে, এককভাবে কেউ এটি এড়িয়ে যেতে পারেন না।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমান বলেন, "এটি মূলত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রোগ্রাম।"
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সাধারণত কোনো কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি অবস্থান করার সুযোগ নেই। অথচ বিগত প্রায় ১৩ বছর ধরে দীপিকা রানী সেন বানারীপাড়া উপজেলাতেই বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন এবং সেখানেই স্থায়ী বাসস্থান গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে কাজ করার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নির্দেশ অমান্য, জাতীয় দিবসের অবমূল্যায়ন এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বানারীপাড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ।