নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বানারীপাড়ায় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধভাবে আটক এবং তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক রাজমিস্ত্রি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক এ আদেশ দেন। মামলার বাদী বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ।
মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জালিছ মাহমুদ তাঁর স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সিআর ৪২৩/২০২৫ নম্বরে মামলা করেন পপি। ওই মামলায় বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সব টাকা পরিশোধের পর বিচার শেষে খালাস পান জালিছ।
জালিছ ও পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা জান্নাত নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুটির বয়স প্রায় তিন বছর। তালাকের পর পপি অন্যত্র বিয়ে করলে শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ওসির নির্দেশে এসআই জাহিদ চার-পাঁচজন পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে জালিছকে আটক করতে যান। এ সময় বাড়ির সামনের রাস্তায় তাঁকে পেয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। অন্য পুলিশ সদস্যরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা মামলার কথা বলে জালিছকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে থানায় দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাঁর অনুমতি ছাড়াই ওসির নির্দেশে কন্যাসন্তানকে সাবেক স্ত্রী পপির জিম্মায় দেওয়া হয়।
থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জালিছ বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলায় আইনগত অধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী।
তবে মামলায় আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, শিশুটির বয়স দুই বছর আট মাস এবং সে খুব অসুস্থ। মাতৃস্নেহে ও চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তাকে চিকিৎসা করিয়ে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’