মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :: বরিশালের বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদসহ একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করা হয়েছে। ওসি মজিবুর রহমানের মতে, পারিবারিক বিরোধ ও শিশু সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহের মানবিক দিক বিবেচনায় ভূমিকা রাখায় প্রতিহিংসাবশত এ মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ওসি মো. মজিবুর রহমান ও এসআই জাহিদসহ ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জালিস মাহমুদের আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, জালিচ মাহমুদের সাথে পুলিশের অযৌক্তিক আচরণ,হুমকি ও মারধরের অভিযোগের ভিত্তিতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।এছাড়াও তিনি জানান জালিচ মাহমুদ যেহেতু আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তাই আদালত মামলার তদন্ত করে এর সত্যতা বের করবে।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, জালিছ মাহমুদের সাথে তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দুই বছর পূর্বে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর প্রায় ৩ বছর বয়সী শিশুকন্যাটি মাতার কাছে লালিত-পালিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে শিশুটির মা নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সন্তানের প্রতি তার মমতা অটুট ছিল।প্রায় মাসখানেক পূর্বে জালিস মাহমুদ তার কন্যাকে মায়ের কাছ থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।কথা ছিল কয়েকদিন রেখে আবার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেবে।কিন্তু ওয়াদা ভঙ্গ করে সঠিক সময়ে তার শিশুকন্যাকে ফিরিয়ে না দেওয়ায় দুই পক্ষের বিরোধ থানা পর্যন্ত গড়ালে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওসি মো. মজিবুর রহমানের নির্দেশনায় এস আই জাহিদ হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে এবং শিশুটির বাবা-মায়ের সর্ব সম্মতিক্রমেই শিশুকন্যাটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে পরবর্তীতে জালিছ মাহমুদ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে না নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের হুমকি প্রদান করেন।যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওসি মজিবুর রহমান বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদৌ সত্য নয়। আদালতের নির্দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালিত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করাও দায়িত্বশীলতার পরিচয়, যা আমরা কেবল সততার সাথে পালন করেছি।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও ওসির সমর্থকরা মনে করছেন, বিচ্ছেদের দেয়াল যতই উঁচুই হোক, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা আইন ও মানবিকতার দৃষ্টিতে অনন্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কোনো নির্দোষ পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন, সে দাবি তুলেছেন তারা।