নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে মাদ্রাসা রোডের একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে "ম্যাগনেসা বাংলাদেশ" নামক একটি ইউনানি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে একজন ভুয়া ডাক্তার ও একজন অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রেতাকে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে।অর্থদন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হলেন বরিশাল সদর উপজেলার শাফানিয়া গ্রামের ভুয়া চিকিৎসক এম এ হাসান সিদ্দিকী ও অন্যজন হলেন বানারীপাড়া টেম্পু স্টেশনের থাই এলুমিনিয়াম ব্যবসায়ী ও বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রেতা মোঃ মিজানুর রহমান।বরিশাল র্যাব-৮ এর গোয়েন্দা বিভাগ ২৪ আগস্ট (সোমবার) সকাল ১১.০০ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোগী সেজে চিকিৎসা নিতে আসার পরে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।র্যাব সুত্রে জানা গেছে কোনো এক ভুক্তভোগী রোগী প্রতারিত হওয়ার পরে বিষয়টি তাদের অবহিত করায় তারা অভিযান পরিচালনা করেন।চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা ছাড়াই পরামর্শপত্র প্রদান, ঔষধ বিক্রেতার ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা,চিকিৎসকের করা প্রেসক্রিপশনের বেশ কিছু ঔষধ রোগীর দেহে সঠিকভাবে কাজ না করা, বেশি মূল্যে ঔষধ বিক্রি ও ভুক্তভোগী রোগীরা তাদের থেকে একাধিকবার উচ্চমূল্যে এ ঔষধ কিনে খাওয়ার পরেও রোগের উন্নতি না হওয়াসহ একাধিক অভিযোগ তোলা হয় চক্রটির বিরুদ্ধে। অনুমোদনহীন এ চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতি রোগীর থেকে প্রতিবার ৭০০ টাকা পরামর্শ ফি আদায় ও ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার পর্যন্ত ঔষধ সেবন করতে দেয়া হয়।র্যাব সুত্রে আরো জানা গেছে যে,রোগীরা এ উচ্চ দামের ঔষধ সেবন করে রোগ মুক্ত হওয়াতো দূরের কথা বরং তাদের শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি হচ্ছে বলে তাদের নিকট অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক এম এ হাসান সিদ্দিকী তার চিকিৎসা সঠিক নয় বলে ভুল স্বীকার করে দায় স্বীকার করায় বানারীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত নওশিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে "বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল আইন"- ২০১০ অনুযায়ী ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।এছাড়াও ঔষধ বিক্রেতা মিজানুর রহমানকে স্থানীয় সরকার আইন (পৌরসভা) এর ৮০ ধারা অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়। তারা এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসা প্রদান ও ঔষধ বিক্রি না করার শর্তে প্রতিশ্রুতিও দেন। র্যাব অভিযান পরিচালনাকালে একাধিক ভুক্তভোগী রোগী এসে ঔষধ বিক্রেতার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।তারা বিগত কয়েক মাসে রোগীদের ভুয়া চিকিৎসা প্রদান করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।