নিজস্ব প্রতিবেদক :: মুক্তিপণ আদায়ে শিশুকে অপহরণ করেন বাবার মামাতো ভাই, অংশ নেন সন্ধানের দোয়ায়ও।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মুক্তিপণের আশায় সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ফয়সালের বাড়ি থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজন হলেন মো. রাকিব ও জাহাঙ্গীর আলম। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলে যায় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন। স্কুল ছুটির পর এক ব্যক্তি নিজেকে অটোরিকশাচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে জানায় যে তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে গাড়িতে তুলে নেয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে যৌথ দল। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণের জন্যই ফয়সাল এই অপহরণের ছক কষেন। অপহৃত শিশুটিকে লুকিয়ে রাখার সুবিধার্থে তিনি আগেই নিজের স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এমনকি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানের জন্য বাবার আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলেও ফয়সাল স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির জালে আটকা পড়েন তিনি।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ফয়সাল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি পরিচিত কয়েকজন অটোরিকশাচালককে টাকার ভাগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এ কাজে যুক্ত করেন।’
গ্রেপ্তার তিনজনকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।