প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৮, ২০২৬, ১২:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক সাকলাইন মোস্তাক, নতুন কমিটিতে চায় বরিশাল যুবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নতুন কমিটিকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী, ত্যাগী ও রাজপথকেন্দ্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এখন নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল মহানগর যুবদলের পরিচিত ও পরীক্ষিত সংগঠক সাকলাইন মোস্তাককে আগামী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ—বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক অথবা সদস্য সচিব হিসেবে দেখতে চেয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মতো নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও সাকলাইন মোস্তাক কখনও রাজপথ ছেড়ে যাননি। বরং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা সাংগঠনিক জটিলতার কারণে বরিশাল মহানগর যুবদল দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি আসেনি এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মাঝে হতাশাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একজন সাহসী, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
মহানগর যুবদলের একাধিক সক্রিয় কর্মী বলেন,
“আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা কেবল পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করবেন না; বরং দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াবেন, রাজপথে নেতৃত্ব দেবেন এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন। সাকলাইন মোস্তাক সেই যোগ্যতা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। তিনি শুধু একজন নেতা নন, বরং তৃণমূলের আস্থার প্রতীক।”
তারা আরও বলেন,
“যে সময়ে অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছেন, সেই কঠিন সময়ে সাকলাইন মোস্তাক রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। মামলা, হামলা কিংবা কারাবরণ তাকে দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বরিশাল মহানগর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীবান্ধব মনোভাব এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়া উচিত। তাদের মতে, যুবদলকে নতুন উদ্যমে সংগঠিত করতে হলে এমন নেতাকে দায়িত্ব দিতে হবে, যিনি কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং মাঠের বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খুব শিগগিরই বরিশাল মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারে। সম্প্রতি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের নেতৃত্ব নিয়েও জল্পনা-কল্পনা তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় সাকলাইন মোস্তাকের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায় উঠে আসছে একই প্রত্যাশা—বরিশাল মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে এমন কাউকে দেখতে চান তারা, যিনি তৃণমূলের ভাষা বোঝেন, কর্মীদের মূল্যায়ন করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
এ বিষয়ে তৃণমূলের অভিমত স্পষ্ট—বরিশাল মহানগর যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাকলাইন মোস্তাকের মতো ত্যাগী, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃণমূলের এই প্রত্যাশাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
Copyright © 2026 Crime Times. All rights reserved.