প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৫, ২০২৬, ৩:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
সংসদ ভবনে সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে গ্যালারি : সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাল বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের পরিবার

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে গ্যালারি নামকরণের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের পরিবার। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানিয়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় তারা বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গত ২২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন গ্যালারির নাম সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর-এর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
তার ছোট ভাই মনজুরুল ইসলাম বাচ্চুর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে তাবলীগ জামাতে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরে তার ছেলে মাহমুদুর হাসান সাব্বির বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর সেখানে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারি নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়।
বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা বর্তমান সরকারকে স্বাগত জানাই। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও বীরশ্রেষ্ঠদের জন্য দৃশ্যমান তেমন কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি।
আমার চাচা একজন বীরশ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তার বাড়িতে এখনো ‘বীর নিবাস’ নির্মিত হয়নি। এছাড়া সেখানে একটি জাদুঘর থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আত্মত্যাগ তুলে ধরতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংসদ ভবনে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারি নামকরণের উদ্যোগের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি সংরক্ষণে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি গ্যালারি-১-এর নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে।
এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মকে বীরশ্রেষ্ঠদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Copyright © 2026 Crime Times. All rights reserved.