নিউজ ডেস্ক :: হরমুজে স্বস্তি, কমছে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা নিম্নমুখী থেকে চার মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৬ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ধীরে ধীরে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। এর ফলে বাজার থেকে ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ কমে গিয়ে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ তোমোমিচি আকুতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু হওয়ার ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে। পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে তেলের দাম আরও কমে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা অন্তত তিনটি সুপারট্যাঙ্কার মঙ্গলবার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ট্যাংকার পারাপারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের শিপিং সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত শত শত জাহাজ এবং প্রায় ১১ হাজার নাবিকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ সমন্বয় কার্যক্রম চলছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই কৌশলগত জলপথে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং তেলের দাম নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে।