![]()
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও পরবর্তী বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাতায় পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পর্যটন মৌসুমে যানবাহনের চাপ সামলানো, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে উন্নত সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যটন, কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গা-বরিশাল সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে কুয়াকাটাকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসেবা ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থায়ন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার ওপর।
উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে।
কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পরিচিত সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের যাতায়াত থাকলেও ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে সড়ক যোগাযোগের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন প্রকল্প এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা পণ্য পরিবহনের সময় ও ভোগান্তি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় বাজার, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন প্রকল্পের একনেক অনুমোদন এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, বাস্তবায়নকাল ও নির্মাণকাজ শুরুর সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশিত যোগাযোগ উন্নয়নের অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।