শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পানি উন্নয়ন বোর্ড মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধন করেন – পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরিশালে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত করোনা ভাইরাস : লকডাউনে যুক্ত হলো নতুন যেসব নির্দেশনা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির বরিশালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পন করেছে – জাহিদ ফারুক শামীম বরিশালে শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রশাসনকে নির্দেশ- সিইসি শাহান আরা বেগমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে চরমোনাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন করেন ইশা ছাত্র আন্দোলন চরমোনাই শাখা বিসিজি স্টেশান বরিশাল উদ্ধার করলো গাঁজা
৭ মার্চের ভাষণ জাতির রক্তে আগুন জ্বেলেছিল

৭ মার্চের ভাষণ জাতির রক্তে আগুন জ্বেলেছিল

৪৯ বছর আগের এক মধ্য দুপুর। লাখো মানুষের সরব উপস্থিতিতে মঞ্চে আসেন মহানায়ক। শুরু নতুন এক ইতিহাসের পথ চলা। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণেই রচিত হয়, বাঙালির চিরায়ত স্বপ্ন স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি। পাকিস্তানী হানাদারদের পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানোর প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তিতে ফেলে, বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে রণপ্রস্তুতির উপলক্ষ্য এনে দেন তার সেই অমর কবিতায়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের সকালটি ছিলো আর দশটা সকাল থেকে আলাদা। লাঠি আর পতাকা হাতে লাখো মানুষের পথ গিয়ে মেলে রেসকোর্স ময়দানে।

বিকেল ৩ টা ২০। জনতার অপেক্ষার প্রহর ফুরোয়, মঞ্চে ওঠেন কোটি বাঙালির প্রাণপুরুষ। পরের ১৯ মিনিটে রচিত হয় এমন এক মহাকাব্য, যার ছন্দে ছন্দে স্বাধিকারের মন্ত্র, উদ্দীপ্ত করে মুক্তিকামী কোটি বাঙালিকে।

এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

জনতাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’

প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের স্বাধীনতার ডাকে জেগে উঠেছিল ২৩ বছরের শোষণ আর নিপীড়নে পিষ্ট এ দেশের মুক্তিপাগল জনতা। পেয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের দিক—নির্দেশনা।

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও বর্তমানের আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু তার চশমাটা সেদিন ডায়াসের ওপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত। একদিকে তিনি পাকিস্তানিদের প্রতি চার দফা শর্ত আরোপ করলেন, অন্যদিকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে বললেন।

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম। একজন তাকে বললেন, জনগণ কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা ছাড়া মানবে না। বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি তোমার কাজ কর। আমি তাদের নেতা, আমি তাদের পরিচালিত করবো, তারা আমাকে নয়।’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের পর গোটা বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে বিভিন্ন জায়গায় পূর্ব পাকিস্তান শব্দ মুছে বাংলাদেশ লেখে।

তিনি বলেন, এ ভাষণের পর গোটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় চলতে থাকে। এ ভাষণ গুটি কয়েক রাজাকার ছাড়া গোটা বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

বাংলার ইতিহাসে আর কোনো রাজনৈতিক নেতার ভাষণের শব্দমালা এমনভাবে হৃদয় মনে গেঁথে নেই, যতটা জায়গাজুড়ে আছে ৭ মার্চের ভাষণ।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টা ৩০মিনিটে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ করবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





আমাদের ভিজিটর

  • 69,510 জন ভিজিট করেছেন
© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby