শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা, ওসি প্রদীপসহ ৭ জন পুলিশ সদস‌্য বরখাস্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ “করোনাভাইরাসে” আক্রান্ত যাত্রীদের সুবিধার্থে বরিশাল টু ঢাকা নৌরুটে লঞ্চের ‘স্পেশাল সার্ভিস’ শুরু উদ্যম সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন এর ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান বিশ্বের তৃতীয় ধনী হলেন ‘ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা’ মার্ক জাকারবার্গ বরিশাল মেডিকেলে ৮ ঘন্টায় “করোনা ওয়ার্ডে ৫ রোগীর” মৃত্যু আগামী ৩ দিনের মধ্যেই বাজারে ‘করোনা ভাইরাসের’ ভ্যাকসিন আনছে, রাশিয়া ঢাকা- চট্টগ্রাম-বরিশাল সহ দেশের ১৬টি অঞ্চলে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া, আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আরও ২৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৮৫১জন যেভাবে বুঝবেন আপনার ‘শিশু বুদ্ধিমান হবে’ জেনে নিন ফ্রান্সে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগামী জুলাই (২০২১ সাল) পর্যন্ত বাসায় থেকে কাজ করতে দেবে ফেসবুক বরিশালে নতুন করে ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২৫৮১ জন এনজিওকর্মী তরুণীকে “রাতভর ধর্ষণ” শেষে রাস্তায় রেখে পালাল প্রেমিক, রায়হান অবশেষে শুরু হচ্ছে শাকিব মাহি ‘নবাব এলএলবি’ শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, এমপি শাহে আল ৯টা থেকে ৫টা অফিস করতে হবে সব সরকারি চাকরিজীবীকে গিনেস বুকে রেকর্ড: বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়েরকে জেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা বরিশালের ৬টি জেলায় বেড়েই চলছে নদ-নদীর পানি উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করলে সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’ তথ্যমন্ত্রী
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিদায় ‘হজ্বের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ’ ভাষণ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিদায় ‘হজ্বের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ’ ভাষণ

ইসলাম ডেস্ক: মহান আল্লাহ তাআলা মহানবী (সাঃ) কে প্রেরণ করেছেন দ্বিন ইসলামকে বিজয়ী ও পূর্ণতা দানের জন্য। যখন দ্বিন ইসলাম বিজয় ও পূর্ণতা লাভ করে তখন তিনি তাঁর বিদায়ের কথা অনুভব করেন। তাই তিনি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা)-কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করে প্রেরণকালে বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, সম্ভবত এ বছরের পর আমার সঙ্গে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে না। হয়তো তুমি আমার মসজিদ ও আমার কবরের পাশ দিয়ে গমন করবে।’ মহানবী (সা.)-এর এ কথা শুনে হজরত মুয়াজ (রা.) প্রিয় নবীর বিদায়ের কথা ভেবে কাঁদতে লাগলেন।

৮ই জিলহজ হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মিনায় অবস্থান করেন এবং ৯ জিলহজ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা বিদায় হজের ভাষণ হিসেবে সুপরিচিত।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা:) এর ঐতিহাসিক ভাষণঃ

১. হে জনতা, আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সঙ্গে এ জায়গায় আর কোনদিন একত্র হতে পারব কি না।

২. হে মানবমণ্ডলী, স্মরণ রাখো, তোমাদের আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁহার কোনো শরিক নেই। তোমাদের আদি পিতা একজন, অনারবদের ওপর আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তদ্রূপ সাদার ওপর কালোর কোনো প্রাধান্য নেই। আল্লাহ ভীতিই শুধু শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মানদণ্ড।

৩. তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদ আজকের দিন, এ মাস এবং এ শহরের মতো পবিত্র।

৪. শোনো, জাহেলিয়াতের সব কিছু আমার পদতলে পিষ্ট করা হয়েছে। জাহেলিয়াতের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।

৫. জাহেলি যুগের সুদ রহিত করা হলো। আমাদের মধ্যকার প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের সুদ। এখন থেকে সব ধরনের সুদ হারাম করা হলো।

৬. স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আল্লাহর আমানতস্বরূপ তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কলেমার মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে যে তারা তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান দেবে না, যাদের তোমরা পছন্দ করো না। তারা এরূপ করলে প্রহার করতে পারো। তবে কঠোর প্রহার করবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তোমরা যথাযথ অন্ন-বস্ত্র প্রদান করবে।

৭. আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ। (হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যাহা করিয়াছেন তাহাই সুন্নাত)।

৮. হে জনতা, মনে রেখো, আমার পরে কোনো নবী নেই। তোমাদের পরে কোনো উম্মত নেই। তোমরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উম্মত। ফলে তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, রমজানের রোজা রাখবে, স্বেচ্ছায় ধন-সম্পদের জাকাত দেবে, আল্লাহর ঘরে হজ করবে, শাসকের আনুগত্য করবে। যদি তোমরা এসব পালন করো, তাহলে তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে (ইবনে মাজাহ)।

৯. হে মানবমণ্ডলী, পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতাকে দায়ী করা হবে না।

১০. তোমাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা তখন কী বলবে? সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যুত্তরে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছেন, আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানবী (সাঃ) এ কথা শুনে শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে ৩ বার বলেন, হে রব, আপনি সাক্ষী থাকুন (সহিহ মুসলিম)।

১১. প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের দাস-দাসী সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দেবে। তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরতে দেবে। তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবে। শাস্তি দেবে না।

১২. হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

হযরত রাবিয়া ইবনে উমাইয়া ইবনে খালফ জনতার কাছে উচ্চকণ্ঠে এ বাণী পৌঁছে দেন (ইবনে হিশাম)।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com
Design By Rana