শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে খালপাড়ে পড়ে থাকা ‘কার্টনে ২ কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার’ করেছেন, পুলিশ পুলিশ-জনতা একসাথে কাজ করলে ‘অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব হবে’ ডিসি মো: খাইরুল আলম বানারীপাড়ায় ভিজিডি কার্ডে দূর্নীতি ও অনিয়ম করায় চেয়ারম্যান মাইনুলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে ‘হত্যা’ স্বামী পলাতক সারাদেশে ‘দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে ধীরগতি’ ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি , ৪১ জনকে চাকরি দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামীকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় আজও ৩৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৯০৮ জন ভিজিডি ও রেশন কার্ড দেয়ার লোভ দেখিয়ে জেলের স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীর উৎকর্ষ সাধনে একাত্ম হতে হবে, পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হানিফের আজ ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৬ কোটি ১৯ লাখের ও বেশি মানুষ এবার করোনায় বিপর্যস্ত জার্মানি, আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ২৭ হাজার ছাড়ালো প্রেমিকার সাথে ‘ব্রেকআপ হাওয়ায়’ বন্ধুকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিলেন বন্ধু বিদেশি কর্মীদের জন্য কোভিড-১৯ টেস্ট বাধ্যতামূলক করল মালয়েশিয়া বরিশালের ফায়জুল হক খান ৫৬ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবাসহ আটক শ্বশুরকে গলা কেটে হত্যা করল জামাতা আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মায়ের ওপর অভিমান করে ৮ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা মেসির নামে ‘বার্সার স্টেডিয়াম’ ঘোষণা দিয়েছেন, এমিলি রউসাদ
যেকোনো আক্রমণ থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা

যেকোনো আক্রমণ থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তার সরকার বিশ্বাসী। তবে, যেকোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র ও উপকরণে সমৃদ্ধ এবং উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়। এদিন সাধারণত সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এবার সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। তবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাহিনীগুলো নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে আজকের এই দিনটি এক বিশেষ গৌরবময় স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। সম্মিলিত আক্রমণের মুখে শত্রুবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।’

এই মহৎ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি প্রাণপণ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাকে। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমার সালাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম হয়েছিল, তা আজ মহীরূহ হয়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন প্রতিরক্ষা নীতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সম্পদ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালেই গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোরের জন্য স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক প্রর্বতিত “সকলের সাথে বন্ধুত্ব¡, কারও সাথে বৈরিতা নয়”- এই মূলমন্ত্র দ্বারা আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত। প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে, যেকোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’

সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে বর্তমান সরকার ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিগত এক দশকে আমরা সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র এবং উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২টি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ১টি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এএফএমসি, এমআইএসটি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সামরিক হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সেনাবাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর্মি ইনফরমেশন টেকনোলজি সাপোর্ট অর্গানাইজেশন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইএফএফ প্রস্তুতকরণ প্রকল্প, মাইন-টর্পেডো ডেভেলপমেন্ট, গান ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দ্বারা উন্নত প্রযুক্তির সফট্ওয়্যার তৈরি করে সাইবার নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক ওয়ারফেয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত ও জীবনমান উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তার বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরেন।

আর্থ-সামজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশে^ একটি সুপরিচিত নাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে অনেক উন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যখন ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে, তখনো আমাদের প্রবৃদ্ধি ৫.২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবই।’

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম এবং পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা এবং দেশ গড়ার কাজে আরও বেশি অবদান রাখবেন- পরম করুণাময় আল্লাহ্তায়ালার কাছে এই প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





আমাদের ভিজিটর

  • 20,765 জন ভিজিট করেছেন
© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com
Design By amader sheba