নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে শিয়াল পিটিয়ে হত্যা এবং মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার ভাইরাল ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। রোববার বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আলোচিত এই শিয়ালকাণ্ডের মামলায় শহরের ২৬ নং ওয়ার্ডের চার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৩৩), মোহাম্মদ হারিস (৩৬), কামাল খলিফা (৩২) এবং মোহাম্মদ জামাল খলিফাকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ, গত ২ জুলাই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় উল্লেখিত ব্যক্তি একে একে সাতটি শিয়াল ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নৈতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে এই মৃত শিয়ালের মাংস রান্না করার আরও বেশকিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে লেখালেখির পাশাপাশি শিয়ালের মাংস রুটি দিয়ে খাবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসা হয়। এতে পশুপ্রেমিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি ওঠে।
অবশ্য এর মধ্যেই শিয়ালকাণ্ডে জড়িতদের ‘শিয়াল খেকো’সহ রাক্ষুস উপাধি দেওয়া হয়! পাশাপাশি নাগরিক সমাজের ভেতর থেকে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি আলো বিষয়টি আলোচনায় প্রাধন্য পায়।
ধারনা করা হচ্ছে, পশুপ্রেমি ও নাগরিক সমাজের দাবির প্রেক্ষাপটে শিয়ালকাণ্ডে ৮ দিন পরে ১২ জুলাই রাষ্ট্রের তরফ থেকে আইন ব্যবস্থা নেওয়া। বন বিভাগের কর্মকর্তা বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলাটি করেন।
বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্থানীয় লোকজন শিয়ালগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন। অমানবিক এই ঘটনা সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়, এছাড়া ফেসবুকেও এনিয়ে নেতিবাচক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সংবাদপত্র বা ফেসবুকে শিয়ালগুলোর মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেছে, তবে এই তথ্য কতদূর সত্য তা আরও তদন্তের আগে বলা সম্ভবপর নয়।
শিয়ালগুলো মাংস রান্না করে খাওয়া হয়েছে কী না- এই বিষয়টি জানতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে ভিন্নভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, রান্না করে রুটি দিয়ে খেয়েছেন, আবার কেউ বলছেন, মেরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এবং এই ঘটনায় বিতর্ক শুরু হলে ওই চার ব্যক্তিসহ কজন লোকলজ্জায় অন্তরালে থাকেন। রোববার বিকেলে মামলা হওয়ার খবর এলাকায় পৌছানোর আগেই তাদের দেখা যাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, শিয়ালকাণ্ডে বন বিভাগের নালিশি করেছে, তা মামলা হিসেবে বিচারক গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন। পরবর্তী কার্যদিবসে সেই আদালত থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদেশ হতে পারে।’