স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্বামী ও বাবাকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার বেতমোর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে অটোরিকশাযোগে স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৫) ও শ্বশুর দুলাল হাওলাদারকে (৫৫) নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন অটোচালক হাবিব পাহলান (৪৫)। পথে মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ওপর সোহাগ (২০), মামুন (২৩) ও শাওন সিকদার (২২) দাঁড়িয়ে থাকায় অটোরিকশা চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
এ সময় হাবিব তাদের সড়ক থেকে সরে দাঁড়াতে বললে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। স্বামী ও বাবাকে রক্ষা করতে তানিয়া এগিয়ে গেলে তার পেটে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়রা পরে তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের সময় তানিয়ার গর্ভপাত হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার পরও নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে দাবি তাদের।
কলাপাড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. এহসান বলেন, “পেটে আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল। তবে সময়মতো নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়। তানিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন”।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহাগ, মামুন ও শাওনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।