ঢাকাশুক্রবার , ৩ অক্টোবর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রদল সভাপতি রাজ্জাক হত্যার রহস্য উন্মোচন

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
অক্টোবর ৩, ২০২৫ ১০:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আলোচিত একটি হত্যাকাণ্ডের পুনরায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজ্জাককে চেয়ারম্যান বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যার আগে রাজ্জাকের সঙ্গে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা হাসান মিজির সুসম্পর্ক ছিল। রাজ্জাক হত্যার দিন বাজার যাওয়ার আগে হাসানের সঙ্গে দেখা করেন এবং চা পান করেন। পরে বোনের বাসায় যাওয়ার পথে রাজ্জাকের ওপর হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “তৎকালীন সময়ে হাসান ও রাজ্জাকের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, ভিতরগত মনোমালিন্য ছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন সেই মনোমালিন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।”

একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাজ্জাক যখন চেয়ারম্যান বাজারে যাচ্ছিল, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়নি। এটি কি শুধুমাত্র অদক্ষতা, নাকি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড—এটি তদন্তের প্রধান প্রশ্ন।”

স্থানীয়রা জানান, হাসান মিজি চরফ্যাশন উপজেলা ও হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য পরিচিত। হত্যার দিন রাজ্জাকের অবস্থান ও বাজারের খবর কি হাসান মিজির কাছে ছিল—এটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক।সংবাদপত্রের সাবস্ক্রিপশন

একজন প্রভাবশালী স্থানীয় বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থ ও ব্যক্তিগত বিবাদের মিলিত প্রভাব এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। ঘটনা নিছক এক ব্যক্তি বিরোধ নয়, রাজনৈতিক পরিকল্পনাসহ সংঘটিত হয়েছে।”হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পার হলেও, সাম্প্রতিক স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উঠে এসেছে যে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা, বর্তমান যুবদল নেতা হাসান মিজি সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত ছিল।

একজন বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, মৃত্যুর পরই হত্যাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে নতুন তথ্য ও প্রমাণের আলোকে এই মামলার রহস্য উন্মোচন সম্ভব। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্জাকের মৃত্যুর প্রভাব এখনও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে অনুভূত হয়।

স্থানীয়রা মনে করেন, “রাজ্জাক হত্যার প্রকৃত দায়িত্ব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দোষীদের শনাক্ত না করতে পারা প্রশাসনের কাজেই প্রশ্ন চিহ্ন। তবে নতুন তথ্য অনুসারে হত্যার মূল নেপথ্যকারীর পরিচয় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।”স্থানীয় রাজনৈতিক মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হলে স্থানীয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটা পরিষ্কার হবে।