ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে গ্যাস সংকট চরম দুর্ভোগে নগরবাসী 

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সহ আশপাশের এলাকায় এলপি গ্যাসের সরবরাহ কম থাকার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারন গৃহস্থের পাশাপাশি হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো অনেকটা বন্ধের পথে। গ্যাস সংকটে বরিশালের অনেক বাসাবাড়ীতে প্রায়ই চুলা জ¦লছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেও গ্যাসচালিত স্কুটার সহ নগর পরিবহনের তিনচাকার গাড়ীগুলো গ্যাস পচ্ছেনা। গ্যাস সংকটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছে না রেস্টুরেন্ট ও কনফেকশনারীগুলো। ইতোমধ্যে ৫টি গ্যাস কোম্পানী বরিশালে তাদের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এলপিজি ডিলাররা। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামও এ অঞ্চলে এলপি গ্যাস বিপণন বন্ধ রেখেছে গত একবছর ধরে। ফলে বেসরকারী গ্যাস কোম্পানীর কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছে রান্নায় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থ ও হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্ম দিবসে বরিশাল মহানগরীর সিএন্ডবি রোডের একটি ফিলিং স্টেশনে মোংলা থেকে গ্যাসবাহী গাড়ী এসে পৌছানোর সাথে মহানগরীজুড়ে তার খবর ছড়িয়ে পড়ায় শত শত স্কুটার সহ ৩ চাকার ইজিবাইক সেখানে ভীড় জমায়। ফলে এক পর্যায়ে ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়কেও যানজট তৈরী হয়। দীর্ঘ লাইনের কারণে কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় একেকটি গাড়ী গ্যাস সংগ্রহে সক্ষম হয়।

এমনকি গ্যাস সংকটে খাবার তৈরী সীমিত করায় একদিকে রেস্টুরেন্ট ও কনফেকশনারীগুলোর পুঁজিতে টান পড়ছে। অপরদিকে বিপুল সংখ্যক জনবল কর্মহীন হয়ে পড়ারও আশংকা তৈরী হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক রেস্টুরেন্টই জনবল ছাটাই শুরু করেছে।
অপরদিকে গ্যাস সংকটে অনেক এলপিজি ফিলিং স্টেশনও বন্ধের পথে। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে শতাধিক ফিলিং স্টেশন দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় সেখানেও জনবল ছাটাই শুরু হয়েছে।
ভোলাতে দেশের বৃহত প্রাকৃতিক গ্যাসের আধার থাকলেও গত ৩০ বছরেরও অধিক সময়ে তা এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি। বিগত সরকার ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে করে রাজধানীতে নিয়ে শিল্পে ব্যবহার শুরু করলেও এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক খাতে তার কোন ব্যবহার নেই। সম্প্রতি ‘ভোলার গ্যাস ঐ দ্বীপ জেলার বাইরে সরবরাহ হবেনা’ বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জ¦ালানী উপদেষ্টা। তবে ভোলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার বোঝাই গ্যাস ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে কাভার্ডভ্যান। দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ তাদের নিজস্ব এলাকার প্রাকৃতিক জ¦ালানী থেকে বঞ্চিত হলেও বিগত সব সরকারই বিষয়টি নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থেকেছে।

অপরদিকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাতে গত কয়েকমাস ধরে বরিশাল অঞ্চলে এলপিজির সরবরাহ সীমিত করলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কিছু করতে পারছে না। এমনকি সাড়ে ১২ কেজি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১,৩৩০ টাকা হলেও বেসরকারী বিপণন কোম্পানীগুলো তা ডিলার পর্যায়েই এখন প্রায় ১৪শ টাকায় বিক্রী করছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে তা দেড় হাজার টাকার ওপরে বিক্রী করছেন। সরবরাহ সংকটে বেশীরভাগ ডিলারের কাছেই কোন গ্যাস মিলছে না।

ডিলারদের দাবী দেশে গ্যাস বিপণনকারী ২০টি কোম্পানীর অন্তত ৫টি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। অবশিষ্টগুলো সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে হ্রাস করেছে।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দরের বেশী দামে বিক্রী করায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত ইতোমধ্যে ডিলারদের জরিমানা করায় ধর্মঘটও করেছেন তারা।