ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে ল্যাপটপ-মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করতো, তুর্য বাড়ৈ

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ৫, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৯৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে ল্যাপটপ-মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করতো, তুর্য বাড়ৈ।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে সংরক্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তুর্য বাড়ৈ এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে প্রক্টর অফিসের সামনে মানববন্ধন করে অভিযুক্ত তুর্য বাড়ৈর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত তূর্য এর ল্যাপটপ ও ফোনে ছাত্রীদের প্রায় এক হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে সহপাঠীর এমন বিকৃত মানসিকতা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। অভিযুক্ত এই তুর্য বিপুল পরিমাণ ছবি কোনো পর্নোগ্রাফি সাইটে বা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ রাতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীর ছবি তোলার সময় তুর্য হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার ফোন ও ল্যাপটপ তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দেখা যায়, গত চারবছর ধরে ল্যাবে প্রাকটিক্যাল ক্লাসসহ বিভিন্ন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের পোশাকের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি তুলে আসছিলেন তিনি। এসব ছবি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পেনড্রাইভ ও ইমেইল ব্যাকআপে ফোল্ডার আকারে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, আমরা তার ডিভাইসে বেশ কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি পেয়েছি। এগুলো বেশ সংবেদনশীল। এখন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেহেতু সে এই ছবিগুলো তুলেছে, তাই আমাদের তদন্ত করতে হবে যে সে কোথায় শেয়ার করেছে বা পাঠিয়েছে। এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এই কারণে, পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করবে। উপরন্তু, তার সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত সাইবার ইনস্ট্রুমেন্ট নেই এবং ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাই আমরা বিষয়টি অভিজ্ঞ কোনো আইনি সংস্থাকে (থানা বা ডিবি) হস্তান্তরের চিন্তাভাবনা করছি।