ঢাকাWednesday , 18 March 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন দিন পরেও সরকারি আদেশ পায়নি যমুনা অয়েল!

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকার তিনদিন আগে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনের রেশনিং তুলে নিলেও সেই আদেশ না-কি এখনও পায়নি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড।যে কারণে তারা এখনও অর্ধেকের কম তেল সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যমুনা অয়েল কোম্পানির একাধিক ডিলার এমন অভিযোগ তুলেছেন। রাষ্ট্রীয় ওই কোম্পানিটির ভূমিকা সন্দেহের চোখে দেখছেন অনেকে। তারা নতুন সরকারকে বিপদে ফেলতে চাইছেন কি-না সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক পেট্রোল পাম্প মালিক।

কলাপাড়ায় (পটুয়াখালী) অবস্থিত মেসার্স বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনের মালিক মোঃ জসিম উদ্দীন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমি গতকালও পেঅর্ডার করে বসে আছি, তেল পাচ্ছি না। বরিশাল ডিপোর ডিএমও কায়সার আহমদের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন এখনও তারা সরকারি আদেশ পাননি। তাদের কোম্পানি (যমুনা অয়েল)থেকে যেভাবে নির্দেশনা রয়েছে, সেভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব না।

তিনি বলেন, ৬ মার্চ রেশনিং শুরুর পর আর এক ফোটা অকটেন পাইনি। সর্বশেষ ১৪ মার্চ পেট্রোল পেয়েছি ৩ হাজার লিটার। কোম্পানির লোকজনকে ফোনে পাওয়া যায় না। সরাসরি সাক্ষাৎ করতে গেলেও দেখা দেন না। দেখা পেলেও প্রশ্ন করলেই তারা ক্ষেপে যান। বলেন উত্তর দিতে বাধ্য হন।

যমুনা অয়েল কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন বরিশাল (রুপাতলী) সদরের মেসার্স শাওন ফিলিং স্টেশনের মালিক রাহাত হোসেন শাওন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সোমবার ৯ হাজার লিটার ডিজেল চাইলে দিয়েছে ৪ হাজার লিটার, পেট্রোল-অকটেন ৪ হাজার লিটার চেয়ে পেয়েছি আড়াই হাজার লিটার করে। কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিপো ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেছে ,আমাদেক যেভাবে সরবরাহ দিতে বলা হয়েছে সেভাবে দিচ্ছি।

শুধু বরিশাল অঞ্চলে নয় খোদ রাজধানীর মেসার্স মোহনা ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারে মালিক একেএম মাজহারুল ইসলাম খোকন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, গতকাল ১৩৫০০ লিটার ডিজেল চেয়ে পেয়েছি ৯০০০ লিটার। অকটেন ৪৫০০ লিটার চাইলেও দেওয়া হয়নি।

মেসার্স মোহনা ফিলিং স্টেশন থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যানবাহনে তেল সরবরাহ করা হয়। ডিজেল সংকট হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছেন পাম্পটির কর্মকর্তারা। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, নিটোর, নিউরোসায়েন্সসহ ১২টি হাসপাতাল, র‌্যাব, বাংলাদেশ বেতারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় তেল সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ৩টি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি। পদ্মা এবং মেঘনার ডিলাররা মোটামুটি তেল পাচ্ছে। তবে যমুনা অয়েল কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ দিচ্ছে না। তারা আগের মতোই চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমলারা কেউ কেউ চাচ্ছে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হোক। না হলে প্রতিমন্ত্রী নিজে ঘোষণা দেওয়ার পরও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়না কেনো।

যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আমীর মাসুদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস দিলেও সাড়া দেননি। কোম্পানিটির এমডির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। মুখ চিনে চিনে তেল দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন, পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর থেকেই যমুনা অয়েল কোম্পানির লোকজন ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। ম্যানেজার থেকে শুরু করে ডিজিএম, জিএম এমনকি খোদ এমডিও সেই তালিকায়। এমন সময়ে আরও নিবিড় যোগাযোগ দরকার, যাতে সকলে মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।

যাচাই করার জন্য যমুনা অয়েল কোম্পানি বিভিন্ন লেভেলের কর্মকর্তাকে একাধিক দফায় ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস দিলেও তারা সাড়া দেননি।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলছে। চাহিদার অর্ধেক তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না।

জ্বালানি ও খনিজ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপরেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করার নির্দেশনা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একেকটি বাসে তেল নিতেই সময় ১০ ঘণ্টার বেশি লাইনে থাকতে হচ্ছে। সড়কের পরিস্থিতি ভালো তবে জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদযাত্রা মহাদূর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১ টায় যে বাসগুলো তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে যায়, ডিজেল পেয়েছে রাত ১১টার দিকে। যে কারণে শ্যামলী এনআর পরিবহনের সোমবার রাত ১১ টার বাস ছেড়েছে ভোর ৪ টায়।