
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানাধীন রুনসী এলাকায় এক অসহায় পরিবারের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক আবদুল ওয়াহাব খান থানায় অভিযোগ করেও ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।
অভিযোগে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের রুনসী এলাকার ভূমিদস্যু আনোয়ার খান একই এলাকার আবদুল ওয়াহাব খানের জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। গত ২০ জানুয়ারি ভোরে আনোয়ার খান ২০-২৫ জন ভাড়াটে মাস্তান ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঐ জমির মালিকানা দাবি করে গাছপালা কেটে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এসময় আবদুল ওয়াহাব খান বাঁধা প্রদান করলে তাকে খুনজখমের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ওইদিন তিনি থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণে বাঁধা দিলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার তারা ঘর নির্মাণ করতে থাকে। পরে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং কাগজপত্রাদি নিয়ে বৈঠকের কথা জানানো হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ২৬ জানুয়ারি বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। ডায়েরি নং-১৩৭৩।
জমির মালিক আবদুল ওহাব খান বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে ২৪ মার্চ তাদের মধ্যস্থতায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দখলকৃত জমির কোন কাগজপত্র না দেখাতে পারায় দখলবাজ আনোয়ার হোসেন তার ঘর ভেঙে অন্যত্র নিয়ে যাবেন এবং জমির মূল মালিককে জমি বুঝিয়ে দেবেন মর্মে অচলনামা ও আপোষ মীমাংসা পত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাবার নির্ধারিত তারিখ ২৫ মার্চ নির্ধারণ করা হলেও ওইদিন আনোয়ার খান ঘটনাস্থলে আসেননি।
আবদুল ওয়াহাব খান সাংবাদিকদের জানান, পৈত্রিক ও রেকর্ড সূত্রে রুনসী মৌজায় তার জমি থেকে ৬ শতাংশ জমি ভূমিদস্যু আনোয়ার খান জবরদখল করে জোরপূর্বক একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে। এ নিয়ে শালিস মীমাংসা হলে বুধবার ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ আনোয়ার খান ঘটনাস্থলেই আসেননি। উল্টো তিনি প্রকাশ্যে তাকেসহ পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে তিনি তার জমির দখল নিতে পারছেন না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রফিক জানান, অভিযুক্ত আনোয়ার খান রুনসী মৌজায় যে টিনশেড ঘরটি উত্তোলন করেছেন ওই জমি নয়। ওয়ারিশদের জমি তিনি পাবেন কিন্তু সেটা অন্য জায়গায়। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং আদালতে সঠিক প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

