ঢাকাThursday , 2 April 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাসজমি দখল করে ছাত্রলীগ নেতার ঘর নির্মাণ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট কুচাইপট্রি ইউনিয়নে সরকারি খাসজমি ও খাল দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল মোল্লা একই ইউনিয়নের বসোকাটি গ্রামের মৃত কায়েম মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ( সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যার কারণে এলাকায় তার প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই।

আরও দেখুন
পরিবেশ সংবাদ
স্বাস্থ্য পরামর্শ
প্রযুক্তি গ্যাজেট

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুচাইপট্রি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসোকাটি সেরু মার্কেটের প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১৩৪২ দাগের প্রায় ৩ শতাংশ সরকারি জমি জবরদখল করে সেখানে ইটের পিলার স্থাপন করে স্থায়ী পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। তারা বলেন, খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হবে।

যারা অপকর্মে জড়িত ছিল তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে : হুইপ অপু

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের দখলদারিত্ব চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাসজমি ও জলাশয় দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।

শরীয়তপুরে খাল খননের উদ্যোগ, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশরাফুল মোল্লার বক্তব্য জানার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আইনগত সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।