ঢাকাবুধবার , ৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাসনের নামে নির্যাতন নয় মানবিক শিক্ষার দৃষ্টান্ত আল-মোস্তফা সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসায়

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৬৪

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :: সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—হেফজখানা ও এতিমখানার কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিওতে “শাসন” বা “খেদমত”-এর নামে শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘটনাগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সামান্য ভুল বা শৃঙ্খলার অজুহাতে শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর করা হচ্ছে। কোথাও আবার শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং অপমানজনক আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ড শুধু মানবাধিকারের পরিপন্থী নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও নৈতিকতার সাথেও সাংঘর্ষিক।
শিশু অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এমন ঘটনা সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
তবে এর বিপরীতে কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্তও সামনে এসেছে। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি গেইট সংলগ্ন আল-মোস্তফা সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসার কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও মানবিক আচরণ করছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে খেলাধুলা, শিক্ষামূলক ভ্রমণ এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে কোমলভাবে নসিহতের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করছেন।
মাদ্রাসাটির পরিচালক বলেন, “শিশুদের শাসনের নামে নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাই আমরা চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে মনোযোগ দিতে।”
শিক্ষাবিদদের মতে, ভয়ভীতি বা কঠোর শাস্তির পরিবর্তে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানই হওয়া উচিত আদর্শ পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে সুস্থ থাকে এবং তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
সচেতন মহলের দাবি, দেশের সকল ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।