ঢাকাশনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে ফ্লাটে জুয়ার আসর: ক্যামেরা দেখেই পালালেন ওসি আবুল খায়ের

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৮৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর একটি ফ্লাটে বসে জুয়া খেলার সময় সাংবাদিকদের তোপের মুখে পরে দৌড়ে পালিয়েছেন বিতর্কিত ওসি এমএ আবুল খায়ের ও প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলাল। পুরো ঘটনার কয়েকটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ওসি এমএ আবুল খায়ের বর্তমানে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এরআগে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসি থাকাকালিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে এমএ আবুল খায়ের তার শ্বশুরের নামে কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন। শুধু অবৈধ সম্পদ উপার্জনই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা-সহ নানা অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে নগরীর একটি ফ্লাটে জুয়া খেলা চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান সাংবাদিকরা। সেখানে গিয়ে দেখেন একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। একপাশে ওসি এমএ আবুল খায়েরও বসে রয়েছেন। কেউ টি শার্ট, কেউ গেঞ্জি পড়ে আছেন। প্রত্যেকের সামনে টেবিলে মানিব্যাগ ও মোবাইল রাখা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলের ওপরে তাস ও ৫০০-১০০০ টাকার নোট। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখেই কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলালও দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় আবুল খায়ের ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করতে টাকা আর মোবাইল নিয়ে পাশের বাথরুমে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর সুযোগ বুঝে তড়িঘড়ি করে নেমে যান। পরে অন্য লোক দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।

প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলাল মুঠোফোনে বলেন- আমি ওই ফ্লাটে পাওনা টাকা আনতে গিয়েছিলাম, এমন সময় সাংবাদিকরা ঢুকে ভিডিও করতে থাকে।

তবে হেলাল নিজেকে একটি পিরোজপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবি করলেও তিনি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

সচেতন মহল দাবি- জুয়াসহ নানা অপরাধ দমন করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের রক্ষক যদি নিজেরাই আইন ভঙ্গ করলে তা আরও গুরুতর অপরাধ। এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং মানুষের আস্থা কমে যায়।