ঢাকাসোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে বর্ষার আগেই হিমনীড়ে শ্বেতপদ্মের উৎসব, দর্শনার্থীদের দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৮:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বর্ষা এখনো পুরোপুরি নামেনি। আকাশে মেঘ জমলেও টানা বৃষ্টির দেখা মেলেনি। বাতাসে ভেসে আসেনি সেই চেনা সোঁদা গন্ধ। তবুও বরিশালের হিমনীড় পুকুরপাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়, ঋতু যেন সময়ের আগেই দরজায় কড়া নাড়ছে।

পুকুরের জলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শ্বেতপদ্ম। এক-দুটি নয়, পুরো পুকুরের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়েই সাদা ফুলের সমারোহ। নীরব এই সৌন্দর্য চোখে এনে দেয় এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন—শুধু অনুভবেই ধরা দেয়।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র পদ্মপুকুরে এবার সময়ের আগেই ফুটেছে হাজারো শ্বেতপদ্ম। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত, অর্থাৎ আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই বর্ষার পূর্ণতা দেখা যায়। তবে শ্বেতপদ্মের নিজস্ব ঋতুচক্র অনুযায়ী এপ্রিল থেকে জুলাই—বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসেই এর প্রস্ফুটন বেশি ঘটে।
উষ্ণ আবহাওয়া ও রোদ শ্বেতপদ্মের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। ভোরের আলো ফুটতেই ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয় ফুল, দিনের সঙ্গে সঙ্গে তা পূর্ণতা পায়। তবে তীব্র রোদে কখনো আবার কিছুটা সংকুচিতও হয়।
সাধারণত বর্ষা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুকুরভর্তি পদ্মফুল দেখা যায়। কিন্তু এ বছর চিত্র ভিন্ন। বর্ষা আসার আগেই হিমনীড়ের পুকুরে দেখা মিলেছে শ্বেতপদ্মের আগাম সমারোহ।
স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি আনন্দেরও। জীবনানন্দ গবেষক কবি হেনরী স্বপন বলেন,
“ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি ফুটবে। মনে হচ্ছে, পদ্মভরা পুকুরটাই যেন বর্ষাকে আগেভাগে ডেকে আনছে।”
এই অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দলে দলে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা। তবে পুকুরটি চারদিক থেকে নিরাপত্তা দেয়াল ও গ্রিল দিয়ে ঘেরা থাকায় দূর থেকেই উপভোগ করতে হচ্ছে এই সৌন্দর্য।
কেউ দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকছেন, কেউ গ্রিলের ফাঁক দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। দূরত্ব বজায় রেখেই উপভোগ করছেন নীরব এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও পর্যটন বিশেষজ্ঞ ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
“পদ্মপুকুরটি সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে হলেও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, অন্তত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশের সুযোগ দিলে মানুষ কাছ থেকে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে, পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-উর রশীদ জানান,
“ফুলগুলো যেভাবে আছে, সেভাবেই সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুকুরটি উন্মুক্ত করলে অনেকেই ফুল ছিঁড়ে ফেলে। এটি একটি হেরিটেজ এলাকা, পাশাপাশি এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস ও ভিভিআইপি রেস্ট হাউস রয়েছে—তাই উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।”
দুই বছর প্রায় শূন্য থাকার পর এবারই প্রথম বিপুল পরিমাণে শ্বেতপদ্ম ফুটেছে হিমনীড়ে। পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন,
“আগে বর্ষা না এলে ফুল দেখা যেত না। এখন বর্ষার আগেই ফুটছে—এটা ইতিবাচক লক্ষণ। মনে হচ্ছে পুকুরটি আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।”
এখন প্রশ্ন একটাই—বর্ষা পুরোপুরি নামলে কি আবারও ফুলে ফুলে ভরে উঠবে পুরো পুকুর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগাম প্রস্ফুটন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দে ফেরারই ইঙ্গিত। সবকিছু ঠিক থাকলে ভবিষ্যতে আবারও ফিরে আসতে পারে সেই পুরোনো দৃশ্য—যেখানে জলের অস্তিত্ব ঢেকে দিয়ে চোখে পড়বে শুধু সাদা পদ্মের সমারোহ।
বর্ষা এখনো পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু হিমনীড় পুকুরে শুরু হয়ে গেছে পদ্মফোটার উৎসব—নিঃশব্দ, অনাড়ম্বর, তবুও অপার সৌন্দর্যে ভরপুর।