ঢাকাসোমবার , ১১ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চার মাস ধরে জলাতঙ্ক টিকার সংকট 

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মে ১১, ২০২৬ ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চার মাস ধরে জলাতঙ্ক টিকার সংকট।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চার মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকা নেই। এ কারণে বিভিন্ন পশুর কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে টিকা কিনতে হচ্ছে। একটি টিকা ৫০০ টাকায় কিনে চার জনে ভাগ করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

রোগীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ সময়ই সরকারি হাসপাতালে টিকা থাকে না। যার কারণে বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়।

বিড়ালের কামড়ে আহত সাজু ও শাকিল জানান, আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে টিকা নিতে যান। বলা হয় টিকা নেই। বাইরে থেকে নিতে। সেইসঙ্গে টিকার সঙ্গে নিডেলও আনতে বলা হয়।

নগরীর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো. শাকিল বলেন, ‘এক মাস আগে আমাকে বিড়াল কামড় দিয়েছিল। ওই সময় বরিশাল নগরীর কোনও ফার্মেসিতে টিকা পাই নাই। সরকারি হাসপাতালের নার্সরা বলেছেন, চার মাস ধরে সরবরাহ নেই। দিতে হলে ফার্মেসি দিয়ে কিনে আনতে হবে, সঙ্গে নিডেলও আনতে হবে। এ অবস্থায় রোগীদের কিছুই করার নেই। বাধ্য হেয় ঝালকাঠি থেকে দেড় হাজার টাকায় টিকা কিনে দিতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের এক নার্স জানান, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী টিকা নিতে আসেন। কিন্তু চাহিদার চার ভাগের একভাগ দেওয়া যায় না। কারণ সরবরাহ নেই। কিছু বরাদ্দ পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এ কারণে বেশিরভাগ রোগী পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অফিসে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে।’

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চাহিদার বিপরীতে চার ভাগের এক ভাগও টিকা পাওয়া যায় না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘এ বছর চাহিদামাফিক পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তাতে ভুক্তভোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হবে না। কেন্দ্রীয় অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ শফিকুর ইসলাম জানিয়েছেন, বিভাগের ছয় জেলায় মাসিক চাহিদা ৯ হাজার ৭৪০ ভায়াল। বছরে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮০ ভায়াল। স্বাস্থ্য অধিদফতর এখন পর্যন্ত এই চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। যে কারণে বরিশাল অঞ্চলে টিকার সংকটও কাটেনি।