
নিউজ ডেস্ক :: অস্ত্র ঠেকিয়ে গরু নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী
ফেনীতে অস্ত্রের মুখে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ মে) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে পাঁচ দিন আগে ১০টি গরু এনে মহাসড়কের রামপুর র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় রাখেন মৌসুমি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন। সড়কের পাশে গরুগুলো বেঁধে রেখে একজন রাখাল দেখাশোনা করছিলেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত রাখাল গরুগুলো পাহারা দিয়ে পরে ঘুমাতে যান। এরপর দেলোয়ার নিজেই গরুগুলো পাহারা দিচ্ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ চারজন লোক দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো রামদা নিয়ে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখায়।
একপর্যায়ে তারা গরুর দড়ি কেটে একটি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। দেলোয়ারের চিৎকার শুনে তার ভাই ঘর থেকে বের হয়ে ধাওয়া করলেও তারা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিক্রির জন্য মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ১০টি গরু কিনেছিলাম। গরুগুলো র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় বেঁধে রেখে পাহারা দিচ্ছিলাম।
ভোরে হঠাৎ চারজন লোক অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে একটি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাদের গাড়ির পিছু নিয়েও আটকানো সম্ভব হয়নি। গরুটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. সেলিম নামে আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ১২ দিন আগে বিক্রির জন্য ৪৫টি গরু এখানে এনেছি।
আমরা এই স্থানেই গরুগুলো রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছি। ফেনীতে এর আগেও ব্যবসায়ীকে হত্যা করে কোরবানির গরু লুট, রাখালকে গুলি করে খামার থেকে গরু লুটের ঘটনা ঘটেছিল।
এবারও মৌসুমের শুরুতে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। তারমধ্যে যেখান থেকে গরু নিয়ে গেছে সেটির পাশেই র্যাব-৭-এর ক্যাম্প রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমকে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগও আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

