ঢাকামঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভিন্ন ধর্মের প্রেমের করুণ পরিণতি দিল্লিতে ১৯ বছর বয়সী মুসলিম তরুণীকে গনধর্ষণের পর হত্যা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ৯, ২০২৬ ৮:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৬৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভিন্ন ধর্মের প্রেমের করুণ পরিণতি
দিল্লিতে মুসলিম তরুণীকে হত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ।

দিল্লির মদনপুর খাদর এলাকায় নিশা নামের এক ১৯ বছর বয়সী মুসলিম তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামী অঙ্কিত এবং আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে নিশার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি ছেড়ে অঙ্কিতকে বিয়ে করেছিলেন নিশা। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নিশা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর আগেও তাঁকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়েছিল। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে নিশার ভাই নাসিম জানান, গত ৫ জুন স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছ থেকে তাঁরা নিশার মৃত্যুর খবর পান।সংবাদ প্রতিবেদন

 

 

নাসিম অভিযোগ করে বলেন, “আমার এক বন্ধু শুনতে পায় যে অঙ্কিত অন্যদের বলছে তার স্ত্রী মারা গেছে। খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে ছুটে যাই এবং ঘরের ভেতরে আমার বোনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি।”

পরিবারের দাবি, তাঁরা যখন সেখানে পৌঁছান, তখন ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা নিশার মরদেহ দেখতে পান। সেই সময় ঘরের ভেতরে কুলার এবং ফ্যান চলছিল।

 

স্বজনদের আরও অভিযোগ, নিশার শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, “ও গর্ভবতী ছিল এবং ওর শরীরে প্রচণ্ড মারধরের চিহ্ন ছিল।” এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

রোহান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি এই ঘটনা নিয়ে কিছু কথাবার্তা শুনতে পেয়ে নিশার পরিবারকে খবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ওদের আলোচনা করতে শুনেছিলাম যে অঙ্কিতের স্ত্রী মারা গেছে। এটা শোনার পরপরই আমি নিশার পরিবারকে জানাই।”সংবাদ প্রতিবেদন

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, অঙ্কিত প্রথমে দাবি করেছিল নিশা আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একটি বিস্তারিত ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশ পরবর্তীতে একটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং অঙ্কিতকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক রয়েছে।

 

নিশার পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁরা এখনও এফআইআর এবং ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্টের কোনো কপি পাননি। তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে দাবি করে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, নিশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সফদরজং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর নিশার পরিবার ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা কালিন্দি কুঞ্জ থানার সামনে জড়ো হয়ে ন্যায়বিচার এবং সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।

 

এক স্থানীয় কর্মী অভিযোগ করেন, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, “আমরা শুধু নিশার জন্য ন্যায়বিচার এবং সব অভিযোগের একটি সঠিক তদন্ত চাই।”

 

পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার একটি সময়োপযোগী ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, নির্যাতন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগগুলোও রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলছে।