
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক অটোভ্যান চালককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ করার অভিযোগে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ এবং অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে তার অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, মহিপুরের তারিকাটা এলাকার বাসিন্দা অটোভ্যান চালক মো. রাফি খান (১৯) গত ১৩ জুন কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করান। পরদিন ১৪ জুন সকালে একই যাত্রীরা আবারও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর ব্রিজের আশপাশে আসতে বলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর মো. জাহিদ প্যাদা (২১), মো. কোয়েল গাজী (২০), মো. ইমরান গাজী (২২) এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রাফি খানকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। এ সময় তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে চোখ ও মুখ বেঁধে চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা রাফির বাবা মো. হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তার ছেলেকে মুক্তি দিতে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। পাশাপাশি টাকা না দিলে রাফিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
ছেলের জীবন বাঁচাতে স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করেন রাফির বাবা। পরে নির্ধারিত স্থানে ওই টাকা নিয়ে গেলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইমাদ পরিবহন কাউন্টারের পাশ থেকে মো. জাহিদ প্যাদা ও মো. ইমরান গাজীকে আটক করে পুলিশ।বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় কোয়েল গাজীর বাড়ি থেকে অপহৃত রাফি খানকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই কোয়েল গাজীকেও গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের সময় রাফি খানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আহত করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি নিয়ে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মারধরের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

