ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৮০ বছরের ঐতিহ্যের অবসান, মড়কখোলা ছেড়ে নতুন ঠিকানায় বরিশালের ঐতিহাসিক বাঁশের হাট

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ১৬, ২০২৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাস পেছনে ফেলে স্থান পরিবর্তন হলো বরিশালের ঐতিহাসিক বাঁশের হাট। কাউনিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মড়কখোলা মোড় থেকে বাজারটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কাউনিয়া টেক্সটাইল মোড় এলাকায়। গত ১০ জুন থেকে নতুন স্থানে কার্যক্রম শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষদিকে মড়কখোলা মোড় এলাকায় বাঁশ কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন সৈয়দ কালু, মনসুর গাজী, আয়নাল গাজী, আফসার চৌধুরী ও বিজয় বাবুসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী। সে সময় এলাকাটি ছিল জনবসতিহীন ও নিরিবিলি। পাশেই ছিলো শ্মশান। যেকারণে লোক চলাচলও ছিলো কম। পরবর্তীতে দেশভাগের পর বাজারটির পরিধি বাড়তে থাকে এবং এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বাঁশ বাজারে পরিণত হয়।

পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের সাক্ষী এই বাজার দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকার নির্মাণ খাতের অন্যতম সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
তবে ২০০২ সালে বরিশাল বিভাগ ঘোষণার পর দ্রুত নগরায়নের ফলে মড়কখোলা এলাকা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। একই সঙ্গে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠে ওই এলাকায়। সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশ বাজারকে ঘিরে যানজটের সমস্যাও প্রকট হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লম্বা আকৃতির বাঁশ ট্রাক বা ঠেলাগাড়ি থেকে ওঠানো-নামানোর সময় প্রায়ই সড়ক বন্ধ হয়ে যেত। ফলে মড়কখোলা ও কাউনিয়া সড়কে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হতো। বিষয়টি নিয়ে অতীতে একাধিক মেয়র উদ্যোগ নিলেও বাজারটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দায়িত্ব গ্রহণের তিনমাসের মধ্যেই বাজারটি স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। এ সিদ্ধান্তে নগরবাসীর একটি বড় অংশ সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্যবসায়ীরা নতুন স্থানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে বাঁশ বাজারের প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের কেউ জীবিত নেই। তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে মাসুম, ধলু দাস, কামাল, মামুন ও সাদ্দামসহ ১১ জন ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা মেয়রের কাছে একমাসের সময় চেয়ে আবেদন দিতে গেলে, তিনি আমাদের কোনো কথা শোনেন নাই। নতুন স্থানে এখনো পর্যাপ্ত আলো, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা টয়লেট নির্মাণ করা হয়নি। আষাঢ়ের প্রথম দিনের বৃষ্টিতেই নতুন স্থানের দুরবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। খোলা জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, “নগরবাসীর সুবিধার জন্য বাজার স্থানান্তরে আমাদের আপত্তি নেই। তবে নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দিলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হতো।”
কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী কামাল। তিনি বলেন, কোনোরকম সময় বা সুযোগ না দিয়ে এটা কীসের জনবান্ধব কাজ হলো। মড়কখোলা পুলের উপরতো দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা হকাররা যানজট তৈরি করে রাখে।তাতে সমস্যা হয়না?

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁশ বাজার স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন স্থানে দ্রুত আলো, পানি, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রায় আট দশকের পুরোনো এই বাঁশ বাজার স্থানান্তরের ফলে নগরবাসীর যানজটজনিত ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের ব্যবসায়ীরা যাতে নতুন স্থানে নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।