ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৮ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ. লীগ নেতার মুক্তি চেয়ে বিএনপির কর্মসূচি

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ১৮, ২০২৬ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৩

নিউজ ডেস্ক :: আ. লীগ নেতার মুক্তি চেয়ে বিএনপির কর্মসূচি

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে ব্যতিক্রমী এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির পরিচয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিছিলের প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার অভিযান চালিয়ে লিটন মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আদালত বা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদ্যোগ জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

তবে ঘটনাটিকে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে অস্বীকার করেছেন বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর। তিনি বলেন, “এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো অনুমোদিত কর্মসূচি নয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির পরিচয়ে মিছিল করার ঘটনাকে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল ও ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতির নতুন বাস্তবতা ও জটিল সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।