
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে প্রেসক্রিপশন জালিয়াতি ও নজরদারি : অপসোনিন ফার্মার রিপ্রেজেন্টেটিভের কাণ্ড।
ডাক্তার নিজ কোম্পানির ওষুধ না লেখায় রোগীর প্রেসক্রিপশনে নিজেই বাড়তি ওষুধ লিখে দিচ্ছেন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ঘটনাটি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের হলেও এর সাথে জড়িয়েছে বরিশালের নাম।
অভিযুক্ত রিপ্রেজেন্টেটিভ ইব্রাহিম খলিল মূলত বরিশাল রূপাতলী উৎপাদন কেন্দ্রের ওষুধ কোম্পানি ‘অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড’-এর প্রতিনিধি। তিনি জোরপূর্বক রোগীর প্রেসক্রিপশনে ৫-৬টি বাড়তি ওষুধ লিখে দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম খলিল বলেন, কোম্পানির চাপের কারণে তারা এমন অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য হন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের ফিডব্যাক দিতে কোম্পানিগুলো তাদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছিনিমিনি ও কড়া নজরদারি
সরকারি হাসপাতাল কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বার, সব জায়গাতেই এখন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কড়া নজরদারি চলছে। রোগী চেম্বার থেকে বের হওয়া মাত্রই তাদের হাত থেকে টেনে নেওয়া হচ্ছে প্রেসক্রিপশন।
কোন ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন, তার প্রমাণ রাখতে দেদারসে তোলা হচ্ছে প্রেসক্রিপশনের ছবি। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সটকে পড়তে শুরু করেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্ধারিত ওষুধ লেখার বিনিময়ে চিকিৎসকদের দামি ফোন, গাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট পর্যন্ত উপহার দেওয়া হয়। আর এই উপহারের পর থেকেই চিকিৎসকদের ওপর শুরু হয় কোম্পানির অলিখিত নজরদারি।
অপসোনিন ফার্মার দায় এড়ানোর চেষ্টা ও আইনি সীমাবদ্ধতা
উপহার সংস্কৃতির বিষয়ে চিকিৎসকদের দাবি, উপহার নিলেও তারা সবসময় রোগীর স্বার্থকেই সবার আগে প্রাধান্য দেন। অন্যদিকে বরিশাল রূপাতলীর অপসোনিন ফার্মা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে রিপ্রেজেন্টেটিভদের অতি উৎসাহী আচরণ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
এদিকে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই অনৈতিক বিপণন ব্যবস্থা বন্ধের ক্ষেত্রে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছে। বর্তমান আইন এই আগ্রাসী মার্কেটিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা সমর্থন করছে না।
যদিও দেশে ‘ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন ২০২৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে, তবে সেখানে ওষুধ বিপণনের সঠিক নিয়ম-নীতি বা শাস্তির কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে দিন দিন আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে এই খাত।
সূত্র: সময় টিভি

