ঢাকামঙ্গলবার , ২১ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই নভোথিয়েটারের এসি, টেস্টিং ছাড়াই ১৩ কোটি টাকার বিল উত্তোলন ঠিকাদারের

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নভোথিয়েটারের এসি সচল না করে ১৩ কোটি টাকা তুলে নিল ঠিকাদার

২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বরিশাল নভোথিয়েটার প্রকল্পের কাজ ৬ বছর পেরিয়ে ঠেকেছে ৮০ শতাংশে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই মেগা এই প্রকল্পটিতে জেঁকে বসেছে অনিয়ম। পুরো ভবনে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগই দেয়া হয়নি, অথচ এসির ডাক্টিং লাইন আর মেশিন বসিয়ে কোনো ধরনের টেস্টিং ও কমিশনিং ছাড়াই পুরো ১৩ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, এমন কাজে সহযোগিতা ও সন্তোষজনক সনদ দিয়েছে খোদ গণপূর্ত অধিদফতর।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুবিশাল ভবনের ছাদের সিলিংয়ে স্থাপন করা হয়েছে এসির ডাক্টিং লাইন, বসানো হয়েছে এসির মেশিনও। আপাতদৃষ্টিতে কাজ সম্পন্ন মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসি সচল হওয়া তো দূরের কথা, তা সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করারও কোনো সুযোগ নেই।

গণপূর্ত বরিশাল কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভবনে এসি সরবরাহ ও স্থাপনের দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারকন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। ২০২৫ সালে তারা ভবনে এসি বসালেও, তা সচল না করেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তুলে নেয় ১৩ কোটি ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫২ টাকার পুরো বিল।

নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্র সচল বা পরীক্ষা করে বুঝে না পেয়ে পুরো বিল পরিশোধের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু গণপূর্ত অধিদফতর সব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে সন্তোষজনক সনদ দিয়ে বিল ছাড় করেছে।

গণপূর্তের তথ্য মতে, ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের কাজ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ২০ শতাংশ কাজ বাকি রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া এবং যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা (টেস্টিং ও কমিশনিং) না করে পুরো বিল তুলে নেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি সরকারি অর্থের সুস্পষ্ট অপচয় এবং বড় ধরনের অনিয়ম।’

একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাধারণ ঠিকাদাররা কাজ শেষ করে বিল পেতে মাসের পর মাস ঘোরেন। আর এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কোটি কোটি টাকার বিল পাস হয়ে যাচ্ছে। এটি কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া অসম্ভব।’

তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতর বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস। তিনি বলেন, ‘ইলেকট্র‍িক্যাল বা সিভিল কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন না করে পুরো বিল নেয়ার সুযোগ নেই। নিয়মের ব্যত্যয় হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’