ঢাকাFriday , 4 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পায়রা নদীর পানি, হুমকিতে ১৫ গ্রাম

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পায়রা নদীর পানি, হুমকিতে ১৫ গ্রাম

 

পটুয়াখালীর পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা ও কালীচন্নাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হঠাৎ করে নদীর পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অবিরত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ও গাছপালা।

স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরই মধ্যে অনেক বসতঘর ও মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে এখন পানি মাড়িয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।

চান্দখালী গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘এই বাঁধের রাস্তা দিয়া আমরা চলাচল করতাম। এখন সব ভাইঙ্গা গ্যাছে। তাই পানির মধ্যে দিয়া ভিজ্জা এপার-ওপার চলাচল করি আমরা।’

চান্দখালী গ্রামের মো. কবির বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা এত পানি উঠছে যে আমাগো মসজিদেও পানি উঠছে। এখানে নামাজ আদায় করাও সম্ভব হইতেছে না। আমাগো রান্নাঘরও তলাইয়া গেছে। এ কারণে খাবারও রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি জানাই।’

এদিকে ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। পানির স্রোতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং সদ্য রোপণ করা ধানের চারাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

চান্দখালী গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কয়দিন আগে আমরা রোয়া (ধানের চারা) রুইছি (রোপণ করেছি)। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভাইঙ্গা যাইয়া শো শো করে পানি আইয়া আমাগো ক্ষেতে ঢুকছে। এহন সব রোয়া তলাইয়া গ্যাছে। পুরা ক্ষেত নষ্ট হইয়া গ্যাছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর তীরবর্তী এ বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পায়রা নদীকেন্দ্রিক আমাদের একটি স্টাডি চলমান আছে। ওই স্টাডি রিপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। রিপোর্টটি পাওয়ার পরে আমরা পায়রা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প দাখিল করব।’

এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদীভাঙনে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা, কালীচন্না, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া, ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, তুষখালীর ভুতুমিয়া, মাটিভাঙ্গা এলাকার ফুলতলা এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালীসহ নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।