
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের উজিরপুরে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে বাদীপক্ষকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীরা। উজিরপুর ধামুরা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে ওই বিরোধীয় জমিতে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালতের আদেশের পরও কীভাবে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চলছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, উজিরপুর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-৪৮/২০২৩ মামলায় মো. মনির সরদার গং বাদী হয়ে সেকেন্দার তালুকদার গংকে বিবাদী করে মামলা করেন। মামলাটি বিরোধীয় ভূমিতে বাদীপক্ষের স্বত্ব ও দখল এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবিতে দায়ের করা হয়েছে।
মামলার নথিতে দেখা যায়, বিরোধীয় তফসিলভুক্ত জমির বিষয়ে বাদীপক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিবাদীপক্ষ বিরোধীয় ভূমিতে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে বাদীপক্ষের স্বত্ব ও দখল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রমে আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে উজিরপুর ধামুরা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে অবস্থিত বিরোধীয় জমিতে বিবাদীপক্ষ নির্মাণকাজ শুরু করেছে। বর্তমানে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বা আদালতের আদেশের কথা জানিয়ে বাধা দিতে গেলে বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে বিবাদীপক্ষের লোকজন তাদের মারধর করার পাশাপাশি মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
মামলার নথিতে বিরোধীয় জমির পরিমাণ ৮৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির চৌহদ্দি হিসেবে উত্তরে মজিবর, দক্ষিণে গোলাম মোর্শেদ, পূর্বে পাকা রাস্তা এবং পশ্চিমে খালের কথা উল্লেখ রয়েছে।বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নির্মাণকাজ চলতে থাকলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই বিরোধীয় সম্পত্তির প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। এতে তারা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।আদালতের আদেশ কি অমান্য হচ্ছে?অনুসন্ধানে পাওয়া মামলার নথিতে আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশের উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে ধামুরা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে নির্মাণকাজ চলমান থাকার অভিযোগটি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের আদেশের পর কোনো পক্ষ যদি বিরোধীয় সম্পত্তির অবস্থার পরিবর্তন করে নির্মাণকাজ চালিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আদালতের কাছে উপস্থাপন করে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাদীপক্ষের।
তবে নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত বিবাদীপক্ষের বক্তব্য এবং হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, আদালতের আদেশ অমান্য এবং বাদীপক্ষকে হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখারও দাবি উঠেছে।

