
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর রাজ্জাক স্মৃতি কলোনিতে (কেডিসি) রিপা (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার পায়তারা করেছে নাজমা ও তার ছেলে শাহাদাৎ
গতকাল নিহতর নাম কুলসুম বেগম বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মো. শাহাদাৎ খলিফা (২২) ও তার মা নাজমা বেগমকে (৪৫) আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু নাজমা পলাতক থেকেও আদালত থেকে কিভাবে জমিন নিয়েছে সেটা জানি না। দেশে কি আইন বিচার কিছু নাই? না কি যার টাকা আছে তার আইন আছে। একটি হত্যা মামলা আসামি জামিন হয় কি ভাবে প্রশ্ন সকলের কাছে?
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ মাস আগে শাহাদাৎ খলিফার সঙ্গে রিপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ি বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা ও মালামাল দাবি করে আসছে। এসব দাবি পূরণ না করায় রিপাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রাজ্জাক স্মৃতি কলোনিতে রিপার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিবারের কাছে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে জানানো হলেও স্বজনদের দাবি, যৌতুক না পেয়ে মা ছেলে মিলে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
পরে রিপাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও যৌতুকের দাবির জেরে রিপাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় জালাল বলেন, অভিযুক্ত শাহাদাৎ বিভিন্ন সময টাকার জন্য যৌতুকের জন্য রিপাকে মারধর করতো। সে কথা রিপার চাচা আমাদের বলতো। মেয়েটাকে যৌতুকের জন্য মারধর করতো। ১১ মাস বিয়ে বয়স ওদের। এর মধ্যে ৯ মাসই মাদক সেবন কারী শাহাদাৎ রিপাকে নির্যাতন করে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

