ঢাকাThursday , 10 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীর একটি বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর একটি বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার।

সারা বিশ্বে যখন সচেতনতার বার্তা নিয়ে পালিত হচ্ছে “বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস” ঠিক তখনই বরিশাল নগরীতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের দিনই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী রুনা আক্তারের (২৮) মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক সংলগ্ন নতুন রাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রুনা আক্তার বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী শাওন ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, নিহত রুনা ও তার স্বামী শাওন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন।

প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন পেরিয়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও শাওনের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। পড়ালেখার তাগিদে ও পারিবারিক মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের কারণে রুনা একাই বরিশালের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে স্বামী পুলিশে কর্মরত, এমন পরিচয় দিয়েই বাসাটি ভাড়া নেন রুনা। বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, বাসা নেয়ার পর থেকে স্বামী শাওন সশরীরে না এলেও রুনার মাধ্যমে ভিডিও কল আমাদের সঙ্গে তার কথা হয়। তবে বাসা ভাড়ার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র দেয়ার কথা থাকলেও তা এখনো দেয়া হয়নি।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে স্বামী শাওনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে দীর্ঘসময় ভিডিও কলে কথা বলেন রুনা। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ভিডিও কলের পরেই কোনো এক মানসিক সংকটে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর রুনার শাশুড়িকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন টিম। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত আলামত সংগ্রহ করেছেন। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

সিআইডি টিম ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।